


গুয়াহাটি: উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন দলমত নির্বিশেষ ভারতের রাজনৈতিবিদরা। জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। উত্তর-পূর্বের অন্য নেতারাও ইউনুসের কড়া সমালোচনা করেছেন।
সম্প্রতি চারদিনের চীন সফরে গিয়েছিলেন ইউনুস। সেখানে এক সভায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সেভেন সিস্টার্স বলে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্য আসলে একটি অবরুদ্ধ এলাকা। ওদের কাছে কোনও সমুদ্রপথ নেই। ওই অংশের সমুদ্রপথ সম্পূর্ণভাবে আমাদের আওতাধীন। যা আমাদের গোটা বিশ্বের সঙ্গে জুড়ছে। তাই আমরা চাই, ওই এলাকায় চীন নিজেদের একটি বর্ধিত অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করুক।’ বাংলাদেশকে ওই এলাকার ‘অভিভাবক’ বলেও ওই ভাষণে উল্লেখ করেন ইউনুস। তাঁর এই ভাষণ প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় হইচই। ভারতের চিকেন’স নেককে এড়িয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি করতে ইউনুস তত্পর হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ রাজনীতিবিদরা। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বের নেতারা।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ইউনুস উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা আপত্তিকর ও তীব্র নিন্দনীয়। ইউনুসের এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এসব দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।’
ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়ক বা রেলপথে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চিকেন’স নেক বা শিলিগুড়ি করিডর। মুরগির গলার মতো আকারের ২০ কিমি চওড়া এই ভূখণ্ড তিন দিক দিয়ে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরা। কোনও কারণে এই চিকেন’স নেকে যদি বাধা তৈরি হয়, তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি ভূখণ্ডের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই চিকেন’স নেকের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত সবসময়ই তত্পর। হিমন্ত এদিন দাবি করেছেন, ইউনুস এসব মন্তব্য করে ভারতের চিকেন’স নেক দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। ইউনুসের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মণিপুরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এন বীরেন সিং। ইউনুস সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ভারত নিয়ে এই ধরনের লাগামহীন মন্তব্য অপরিণামদর্শী। এর ফলও খারাপ হবে। চীনকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে ইউনুসের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেড়াও। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক।’ পাশাপাশি কেন্দ্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘ আমাদের বিদেশ নীতি এখন এতটাই শোচনীয় যে, যে দেশ তৈরিতে আমরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছি, সেই দেশ এখন আমাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।’ ইউনুসের বক্তব্য দেশের নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) নেতা প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী।
এর আগে সোমবার ত্রিপুরার দল তিপ্রা মোথার প্রধান প্রদ্যোত দেববর্মা আরও একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের দখল ছেড়ে দেওয়া ভারতের সবচেয়ে বড় ভুল। ঘুরিয়ে তিনি বাংলাদেশকে ভেঙে দেওয়ার ডাকও দিয়েছেন। প্রদ্যোত জানান, ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামের মানুষ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলেও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। এখন ভারতের উচিত, চট্টগ্রামের আদিবাসী বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে সমুদ্র পর্যন্ত একটি পথ তৈরি করা। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, ‘ইউনুস নিজেকে সমুদ্রের অভিভাবক মনে করতেই পারেন, কিন্তু বাস্তব হল ৮৫ বছর বয়সে তিনি একজন অস্থায়ী নেতা। ভুলে যাবেন না ত্রিপুরা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার।’