


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় আসেননি রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁরা সামনের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে আসবেন তো? এই প্রশ্নটা এখনই উঁকি দিয়েছে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে। বিশেষ করে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল সামনের আসার পর থেকে বাংলায় কংগ্রেসের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কতটা আগ্রহী?
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের পর আগামী বছর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আদৌ কতটা লড়াই দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বিহার ও বাংলার রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে থেকে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেন আসছেন না বাংলায়? কবে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাংলায় দেখা যাবে? বিশেষ করে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ইদানীং সময়কালে দেশের একাধিক রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের বাংলায় আসতে দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে আসতে দেখা যায়নি রাহুল, প্রিয়াঙ্কাকে। শুধু ন্যায়যাত্রা কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গের অংশে এসেছিলেন রাহুল। আর গতবছর ব্যক্তিগত পরিসরের একটি অনুষ্ঠানে সরস্বতী পুজোর দিন কলকাতায় এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সেসময় কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেননি সোনিয়া-তনয়া।
এটা স্বাভাবিক, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সফরে এলে কংগ্রেস কর্মীরাও উদ্বুদ্ধ হন। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, চটকদারি কোনও বিষয়ে সাময়িক লাভ হয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী লাভ হয় না। তাই আমি মনে করি, আগে কংগ্রেসের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। আমি চাই, দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী হলে তবেই আনা হবে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাকে। তবে গান্ধী পরিবার ও সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি পুরোমাত্রায় কংগ্রেস কর্মীদের পাশে আছে। আর জি কর, পহেলগাঁও, উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।
তবে বিহার নির্বাচনের ফলের সূত্র ধরে এই প্রশ্নটাও উঠে এসেছে সিপিএম-কংগ্রেসের জোট হবে কি না? শুভঙ্কর সরকারের ব্যাখ্যা, একক শক্তিতে কংগ্রেসের সংগঠনকে শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য।