Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

শিশুর মাম্পস হলে করবেন কী?

মাম্পস একটি ভাইরাসঘটিত অসুখ। অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। মাম্পস আক্রান্তের সংস্পর্শে গেলে অন্য সুস্থ ব্যক্তি এই রোগের শিকার হতে পারে। আক্রান্ত বাচ্চার কাশি, থুতু, লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্য বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

শিশুর মাম্পস হলে করবেন কী?
  • ৭ মে, ২০২৫ ১৭:০৫
Prefer us on Google

পরামর্শে অ্যাপোলো হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অভিষেক পোদ্দার। শুনলেন অয়নকুমার দত্ত।

Advertisement

মাম্পস একটি ভাইরাসঘটিত অসুখ। অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। মাম্পস আক্রান্তের সংস্পর্শে গেলে অন্য সুস্থ ব্যক্তি এই রোগের শিকার হতে পারে। আক্রান্ত বাচ্চার কাশি, থুতু, লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্য বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

মাম্পস হলে সাধারণত মানবদেহের লালাগ্রন্থি (স্যালিভারি গ্লান্ড)-সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে। মূলত প্যারোটিড গ্রন্থিকে বেশি এফেক্ট করে মাম্পস ভাইরাস। কানের নীচে চোয়ালের কাছে এই গ্রন্থি থাকে।

মাম্পসের টিকা

সদ্যোজাতেরও মাম্পস হতে পারে। তবে, সেই সংখ্যাটা নেহাতই হাতেগোনা। সাধারণত একটু বড় বাচ্চাদের মাম্পস হয়। কারণ মায়ের কাছ থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাচ্চার শরীরে ৬ মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে। তাই এক বছরের কম বয়সি বাচ্চার মাম্পস হয়েছে, তা প্রায় দেখাই যায় না। যদি মা ছোটবেলায় মাম্পসের ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকেন, তাহলে দেখা যেতে পারে। ৯ মাস বয়সে বাচ্চাকে এমএমআর— মাম্পস-মিজিলস-রুবেলা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন— সরকারি টিকাকরণ কর্মসূচিতে বাচ্চাকে এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তাতে মিজিলস (হাম) আর রুবেলার টিকা থাকে। প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, কেন সরকারি উদ্যোগে মাম্পসের টিকা দেওয়া হয় না? যেখানে রাজ্য সহ সারা দেশেই ফের বাচ্চাদের মধ্যে প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। আসলে সরকার সেইসব রোগের ক্ষেত্রেই টিকা দেয়, যেসব রোগে বাচ্চার জীবনহানির আশঙ্কা থাকে। মাম্পসে বাচ্চার অস্বস্তি ও কষ্ট হয়, তবে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে।

তাই মাম্পস হলে বাচ্চার গুরুতর সমস্যাও তেমন দেখা যায় না। তবে, মেল বেবির ক্ষেত্রে অর্কাইটিস (অণ্ডকোষের প্রদাহ) এবং ফিমেল বেবির ক্ষেত্রে ওফোরাইটিস (ডিম্বাশয়ের প্রদাহ) হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে স্পুটামে সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস, এনকেফেলাইটিস, নিউমোনিয়া হতে পারে। অবশ্য, এই ধরনের জটিলতার আশঙ্কা খুবই কম।

একটা বিষয় জেনে রাখা জরুরি, যে কোনও বাচ্চার শরীরে মাম্পস ভাইরাস ঢোকার দু’-তিন সপ্তাহ পরও রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিন্তু লক্ষণহীন অবস্থাতেই সে অজান্তে অন্য বাচ্চার মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসা: মাম্পসে সিমটোমেটিক ট্রিটমেন্ট করা হয়। অর্থাৎ উপসর্গ দেখে ওষুধ দেওয়া হয়। যেহেতু জ্বর আসে, তাই প্যারাসিটামল দিতে হয় নির্দিষ্ট ডোজ অনুযায়ী। মাম্পস হলে গাল ফুলে যায়। একদিকের গাল যেমন ফুলে ওঠে, দু’দিকের গালও ফুলতে পারে। সাব ক্লিনিক্যাল মাম্পস হলে জ্বর আসে, তবে গাল ফুলে ওঠাটা অতটা বোঝা যায় না। কিন্তু অন্য কোনও ধরনের সমস্যা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

অভিভাবকদের করণীয়

  নির্দিষ্ট সময়ে এমএমআর ভ্যাকসিন দিতে হবে।  মাম্পস আক্রান্তের উপসর্গ দেখা দিলেই ৫-৭ দিন ঘরবন্দি রাখতে হয়।  হাঁচি, কাশির মাধ্যমে মাম্পস ভাইরাস ছড়ায়। তাই বাচ্চার মাম্পস হলে তাকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। অন্যান্য সুস্থ বাচ্চার সংস্পর্শে যাতে সে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

 বাচ্চাদের শেখাতে হবে অযথা নাক, মুখে হাত দেওয়া ঠিক নয়। এছাড়াও খাবার সময় অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খেতে হবে।  মাম্পস আক্রান্ত বাচ্চা মাস্ক পরতে পারলে অন্যদের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। 

 গাল ফুলে ওঠে বলে ঠান্ডা বা গরম সেঁক দিলে বাচ্চা আরাম পায়।  মুখে ব্যথা থাকে, তাই নরম ও তরল খাবার দেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ