Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলা ভেঙে পৃথক রাজ্য গড়বই, অসমের জনসভায় হুমকি দিসপুরের সমর্থনে আস্ফালন নিষিদ্ধ সংগঠন কেএলও’র প্রধানের

নিষিদ্ধ সংগঠন ও সংস্থার যে তালিকা ফি বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ফার্স্ট সিডিউল হিসেবে প্রকাশিত হয়

বাংলা ভেঙে পৃথক রাজ্য গড়বই, অসমের জনসভায় হুমকি দিসপুরের সমর্থনে আস্ফালন নিষিদ্ধ সংগঠন কেএলও’র প্রধানের
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: নিষিদ্ধ সংগঠন ও সংস্থার যে তালিকা ফি বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ফার্স্ট সিডিউল হিসেবে প্রকাশিত হয়, তাতে ৩৭ নম্বরে জ্বলজ্বল করছে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) নাম। ১১ বছর আগে কেএলও’কে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পদ্মপার্টির শাসনকালেও বহাল রয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা। এতদিন গোপন ডেরা থেকে বিবৃতি আর ভিডিও বার্তা দিয়ে বঙ্গভাগের হুমকি দিয়ে এলেও, এবার খোদ জনসভায় বক্তৃতা দিলেন কেএলও প্রধান জীবন সিংহ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে রবিবার (২৩ মার্চ) অসমের গোঁসাইগাঁওয়ে প্রাক্তন কেএলও জঙ্গি এবং লিঙ্কম্যান ও সমর্থকদের জমায়েতে মোবাইল ফোনে সম্প্রচারিত হল জীবনের বক্তৃতা। ৪০টি’র বেশি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তা শোনানো হয় সবাইকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সরাসরি হুমকি দিয়ে কেএলও প্রধানের উস্কানিমূলক বার্তা—‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আমাদের মাটিতে আমরাই পরাধীন। এবার আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাতে যদি হাজার হাজার জীবন বলিদান করতে হয়, তা আমরা দেব। ঘর থেকে বের হতে হবে সবাইকে। আত্মত্যাগ করতে হবে। পৃথক রাজ্য করতেই হবে আমাদের।’ শুধু তাই নয়, পৃথক রাজ্য বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তিনমাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে কেএলও। এই জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল গোয়েন্দা ও পুলিস কর্তাদের বক্তব্য—এই বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে পরোক্ষে ফের হিংসাশ্রয়ী রাস্তায় হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে কেএলও। 

Advertisement

সতত বিরাজ করছে আইনের শাসন, সংবিধান ও দেশমাতৃকা রক্ষায় নিয়োজিত রাজ্য—নিজেদের শাসিত অসম সম্পর্কে এমনই প্রচার চালান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা। প্রশ্ন উঠেছে, এহেন রাজ্যের এক প্রান্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠন কীভাবে পৃথক রাজ্যের দাবিতে জমায়েত করল? কীভাবেই বা সেখানে ভাচুর্য়ালি বক্তৃতা দিলেন খুন, অপহরণ, জখম, বোমা বিস্ফোরণ সহ নাশকতার বিস্তর মামলায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান জীবন সিংহ? উত্তর খুঁজতে মাস দেড়েক পিছতে হবে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি অসমের সচিবালয় রাজধানী দিসপুরের লোকসেবা ভবনে কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বৈঠক শেষে কামতাপুরী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন—‘পৃথক রাজ্যের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিতে কোনও আপত্তি নেই তাঁর। এমনকী নতুন রাজ্য গঠনের জন্য ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রয়োজন হলে, উদ্যোগ নেবে অসম সরকারই। ’ ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, বাংলাভাগের এই ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত হওয়া এবং তাতে অসম সরকারের সবুজ সঙ্কেত মেলার পরই ‘স্বমূর্তি’ ধারণ করেছে কেএলও এবং তাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সংগঠন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (কেএসডিসি)। হিমন্তর সমর্থন মেলার পর থেকেই নিম্ন অসমের কোকরাঝাড়, ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বঙ্গাইগাঁও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কেএসডিসি নতুন করে সংগঠন বিস্তার করেছে। গোঁসাইগাঁওতে এই কেএসডিসি’র উদ্যোগেই মঞ্চে জীবন সিংহের ছবি সাঁটা ব্যানার টাঙিয়ে জনসভা হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, যে সভায় এ রাজ্যের মালদহ, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দার঩লিংয়ের সমতল অংশ থেকে বেশ কয়েক হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিল।

সম্পর্কিত সংবাদ