ইন্দোরের জল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যাপক দুর্নীতি, দাবি ‘ওয়াটার ম্যান অব ইন্ডিয়ার’
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দোর: দূষিত জল পান করে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ‘প্রশাসনের তৈরি বিপর্যয়’।  বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ঘটনায় এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন  ‘ওয়াটারম্যান অব ইন্ডিয়া’ রাজেন্দ্র সিং।  জলসংরক্ষণ সংক্রান্ত এই বিশেষজ্ঞের দাবি, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ  শহরের তকমা জুটেছে ইন্দোরের। সেখানে যদি এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, তাহলে অন্য শহরগুলির পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার  হাল কতটা খারাপ, তা সহজেই বোঝা যায়। 

Advertisement

ভগীরথপুরা এলাকায় মূল পানীয় জলের পাইপলাইনে বড়সড় লিক ধরা পড়ায় বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে দেখা যায়, একটি পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে পানীয় জলের পাইপলাইনের উপরেই শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। সেই শৌচাগার থেকে নর্দমার জল পানীয় জলের লাইনে মিশে যায়। এর জেরে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বমি ও ডায়ারিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৫। এখনও প্রায় ২০০ জন হাসপাতালে ভর্তি। রাজেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, খরচ বাঁচানোর জন্য ঠিকাদাররা পানীয় জলের পাইপ নর্দমার লাইনের খুব কাছ দিয়ে বসান, যার ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইন্দোরের ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ কমে যাওয়াও গভীর উদ্বেগের বিষয়। শহরটি এখনও ৮০ কিলোমিটার দূরের নর্মদা নদীর জলের উপর নির্ভর করছে। প্রতি মাসে এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ খরচ বাবদ প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে পুরসভার দাবি। এই বিপুল খরচ ও অব্যবস্থাপনাই ইন্দোরের জল সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।