সংবাদদাতা, ঘাটাল: চন্দ্রকোণা থানা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘাটাল মহকুমায় সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। মহকুমার ঘাটাল, চন্দ্রকোণা-১, চন্দ্রকোণা-২ এবং দাসপুর-১ ব্লকের বহু জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে ফ্লাডশেল্টার এবং স্কুলে রাখা হয়েছে। বন্যার জলে তলিয়ে গিয়ে এ পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে সাপে কামড়ছে। শনিবার দুপুরে দাসপুর থানার রাজনগরে ৫০-৬০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকাডুবির খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে হতাহতের খবর নেই। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিস সুপর ধৃতিমান সরকার ঘাটাল বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন। জেলাশাসক বলেন, চন্দ্রকোণা-১ এবং চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। ঘাটাল কিছু এলাকায় জল থাকলেও উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। আশা করা হচ্ছে আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মহকুমায় ৩৫টি ত্রাণ শিবির করা হয়েছে। যেখানে প্রায় দেড় হাজার বন্যা কবলিত মানুষ রয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হচ্ছে। অন্যান্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যও প্রশাসন তৈরি। শুক্রবার রাত থেকেই চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। রাস্তাগুলি জেগে গিয়েছে। তবে বেশ কিছু রাস্তা বন্যার জলের স্রোতে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চন্দ্রকোণা থানার বারসতের বাসিন্দা তুলসীচরণ রুইদাস (৪৪) ছত্রগঞ্জ থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। সেই সময় বন্যার জলের তোড়ে তলিয়ে যান। শুক্রবার সকালে বন্যার জলস্তর অনেকটা কমতে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শনিবার সকালে চন্দ্রকোণা থানার কামারগেড়িয়ার শেখ আজাবুল আলি(১৯) এলাকার চাতাল থেকে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। চন্দ্রকোণা এলাকায় বন্যার জল নেমে যাওয়ার পরও পানীয় জল না পাওয়ায় শুক্রবার রাতে মানিককুণ্ডু গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার পাঁচ-সাতটি গ্রামের বাসিন্দা ঘাটাল-চন্দ্রকোণা রাস্তার বাঁকাতে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করেন।



