Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে জলস্তর বাড়ছে, তলিয়ে গিয়ে দু’জনের মৃত্যু, ত্রাণ শিবিরে বহু মানুষ

চন্দ্রকোণা থানা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘাটাল মহকুমায় সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। মহকুমার ঘাটাল, চন্দ্রকোণা-১, চন্দ্রকোণা-২ এবং দাসপুর-১ ব্লকের বহু জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে ফ্লাডশেল্টার এবং স্কুলে রাখা হয়েছে।

ঘাটালে জলস্তর বাড়ছে, তলিয়ে গিয়ে দু’জনের মৃত্যু, ত্রাণ শিবিরে বহু মানুষ
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ঘাটাল: চন্দ্রকোণা থানা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘাটাল মহকুমায় সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। মহকুমার ঘাটাল, চন্দ্রকোণা-১, চন্দ্রকোণা-২ এবং দাসপুর-১ ব্লকের বহু জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে ফ্লাডশেল্টার এবং স্কুলে রাখা হয়েছে। বন্যার জলে তলিয়ে গিয়ে এ পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে সাপে কামড়ছে। শনিবার দুপুরে দাসপুর থানার রাজনগরে ৫০-৬০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকাডুবির খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে হতাহতের খবর নেই।  এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিস সুপর ধৃতিমান সরকার ঘাটাল বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন। জেলাশাসক বলেন, চন্দ্রকোণা-১ এবং চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। ঘাটাল কিছু এলাকায় জল থাকলেও উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। আশা করা হচ্ছে আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।  মহকুমায় ৩৫টি ত্রাণ শিবির করা হয়েছে। যেখানে প্রায় দেড় হাজার বন্যা কবলিত মানুষ রয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হচ্ছে। অন্যান্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যও প্রশাসন তৈরি। শুক্রবার রাত থেকেই চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। রাস্তাগুলি জেগে গিয়েছে। তবে বেশ কিছু রাস্তা বন্যার জলের স্রোতে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চন্দ্রকোণা থানার বারসতের বাসিন্দা তুলসীচরণ রুইদাস (৪৪) ছত্রগঞ্জ থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। সেই সময় বন্যার জলের তোড়ে তলিয়ে যান। শুক্রবার সকালে বন্যার জলস্তর অনেকটা কমতে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শনিবার সকালে চন্দ্রকোণা থানার কামারগেড়িয়ার শেখ আজাবুল আলি(১৯) এলাকার চাতাল থেকে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। চন্দ্রকোণা এলাকায় বন্যার জল নেমে যাওয়ার পরও পানীয় জল না পাওয়ায় শুক্রবার রাতে মানিককুণ্ডু গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার পাঁচ-সাতটি গ্রামের বাসিন্দা ঘাটাল-চন্দ্রকোণা রাস্তার বাঁকাতে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করেন।

Advertisement

শিলাবতী ও ঝুমি নদীতে শুক্রবার থেকে জল বাড়তে শুরু করায় ঘাটাল পুরসভা, খড়ার পুরসভা, ঘাটাল ব্লকের সাতটি গ্রামপঞ্চায়েত এবং দাসপুর-১ ব্লকের একটি গ্রামপঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। বহু মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। ওই সমস্ত এলাকাগুলির বহু রাস্তা ডুবে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পঞ্চানন মণ্ডল বলেন, বন্যা প্লাবিত এলাকায় পাঁচজনকে বিষধর সাপে কামড় দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ঘাটাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে শনিবার থেকেই মেডিক্যাল ক্যাম্প করার ব্যবস্থা করেছে। ঘাটাল মহকমায় পাঁচটি স্লুইস গেটের আধুনিকীকরণের কাজ করায় নদীবাঁধগুলি কাটা অবস্থায় রয়েছে। পরিবর্তে বাঁধের সমান্তরাল দু’টিকে দু’টি করে ক্রস বাঁধ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালের দিকে দাসপুর-২ ব্লকের রানিচক স্লুইস গেটের নদীগর্ভের দিকের একটি ক্রসবাঁধ উপচে তীব্র গতিতে জল প্রবাহিত হওয়ায় এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজনগর পশ্চিমে বন্যার জলে ডুবে যায় একটি নৌকা। নৌকাটিতে শিশু ও মহিলা সহ প্রায় ৫০-৬০ জন যাত্রী ছিলেন। রাজনগরের দিক থেকে কালীমন্দিরে যাওয়ার পথে ভাঙা পোলের কাছে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয়রা মাছ ধরার সময় বিষয়টি দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তাঁদের চেষ্টায় সকল যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি। 
• ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ