Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আজ ভোট হোক বাংলার অধিকার রক্ষার জন্য

আজ বাংলায় প্রথম দফার ভোট। ১৫২ আসনে। এসআইআরের হয়রানির পর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনের পর। মৃত্যুমিছিলের পর। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি এবং অ্যাডজুডিকেশন নামক নির্যাতন কমিশনের দুই অবৈধ সন্তানের হাতে লাগাতার হেনস্তার পর।

আজ ভোট হোক বাংলার অধিকার রক্ষার জন্য
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শান্তনু দত্তগুপ্ত: আজ বাংলায় প্রথম দফার ভোট। ১৫২ আসনে। এসআইআরের হয়রানির পর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনের পর। মৃত্যুমিছিলের পর। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি এবং অ্যাডজুডিকেশন নামক নির্যাতন কমিশনের দুই অবৈধ সন্তানের হাতে লাগাতার হেনস্তার পর। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের একটা বড়ো অংশে। আজ আমরা ভোট দিতে বেরোব। সকাল সকাল। হাতে থাকবে ভোটার কার্ড এবং ভোটার স্লিপ। এবং একটা জবাব। প্রত্যেক হয়রানির বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে। বাঙালি হওয়ার অপরাধে ভিনরাজ্যে (পড়ুন ডবল ইঞ্জিন) লাগাতার অত্যাচার, খুন, ভিটেছাড়া হওয়ার বিরুদ্ধে। আর বার্নলটা অবশ্যই আনবেন। কমিশন বলেছিল বটে, বার্নলের জোগান দেবে। কিন্তু আমরা জানি, বাংলার ভোটাররাই তার ব্যবস্থা করতে পারে। নিজেদের জন্য নয়। যারা মাসের পর মাস বৈধ ভোটার বাছাইয়ের নামে গায়ে ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা’র ছ্যাঁকা দিয়েছে, তাদের জন্য। সেই বাংলা আজ দাঁড়াবে ভোটের লাইনে। তাদের এক একটি ভোট জ্বালা ধরাবে বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সেই দালালদের আকাশকুসুম কল্পনায়। কোচবিহার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর। সর্বত্র। 

Advertisement

এবারের ভোটটা সত্যিই অন্যরকম। হয়তো হত না। কিন্তু হয়েছে। সৌজন্যে কে, তা বলার জন্য কোনো পুরস্কার নেই। শুধুমাত্র একটা রাজ্য দখলের জন্য রাষ্ট্রীয় মেশিনারি যে এভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটা বিজেপি প্রমাণ করে দিয়েছে। ইরাক যুদ্ধে গিয়েছিল দেড় লক্ষ সেনা। হাল আমলের ইরানেও ৫০ হাজার। আর জ্বলন্ত মণিপুরে ১৫ হাজার আধাসেনা। সেখানে বাংলার ভোটের জন্য আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী! বাংলাকে গোটা দেশ তথা বিশ্বের সামনে ‘জঙ্গিস্তান’ হিসাবে প্রমাণ করার যে মরিয়া চেষ্টা মুদিবাবু এবং তাঁর দলবল চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটা তাঁদের জন্য আদৌ ভালো বিজ্ঞাপন তো? একেবারেই নয়। আর সেটা বোঝার ক্ষমতাও তাঁদের নেই। তাই এই ক্ষমতালোভী ‘সওদাগর’দের হেলদোল নেই। গণতন্ত্র চুলোয় যাক। দলবদলু খোকাবাবু বলছেন মানে অফিসার বদলি করতেই হবে। সংখ্যাটা শ’পাঁচেক ছাড়িয়ে গেল। তাতে কী? পেটোয়া হাতের পুতুল দিয়ে ভোট করাতে হবে। তাঁদের যে ‘দায়িত্ব’ দেওয়া হয়েছে, সেটা পালন করতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য। একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে। খুল্লামখুল্লা। একে আদৌ ভোট বলে তো? ঠিক এই কারণেই একুশের ভোটে বিজেপির যে আগ্রাসী প্রচার আমরা দেখেছিলাম, তা স্রেফ উধাও। এক তো সংগঠন বলে কিছু নেই। উপরন্তু ভাবটা এমন, যা করার এজেন্সি আর কমিশনই তো করে দিচ্ছে। আমাদের আর অত খাটাখাটনির প্রয়োজন কী? এজেন্সি তো আছে! সংবিধান না-ই মানতে পারি, সাংবিধানিক সংস্থা তো আছে! আর আছে সেইসব সংস্থার ব্যবহার। নির্লজ্জের মতো। রাজনীতির দরবারে। গণতন্ত্রকে ঠুঁটো করে দিয়ে। সবটাই ঠান্ডাঘরে। স্পর্ধার সীমা ছাপিয়ে গিয়ে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছে, আজ ভোটটা দেবে আম জনতা। ভারী বুটের শব্দে তারা ভয় পাবে না। ভণ্ড গেরুয়া ধ্বজাধারীদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ন্যাকামি তাদের হয়রানির দিনগুলো ভুলিয়ে দিতে পারবে না। হাতে ৫০০ টাকা গুঁজে তাদের কেনা যায় না। আজ ভোট হবে আম বাঙালির জন্য। বাংলার অধিকারের জন্য। অস্তিত্বের জন্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ