


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: কুয়াশা মোড়া শীতের মরশুম। মিঠে কড়া রোদ্দুর গায়ে মেখে ভ্রমণের অপার আনন্দ। ছুটির দিন পিকনিকের আমেজ। এই মরশুমে ‘ঘুম স্টেশন’ থেকে ছাড়ছে ভিস্তাডোম কোচ! তাতে বন্দে ভারত ট্রেনের মতো ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলের সিট। ইচ্ছে মতো শরীর ঘুরিয়ে কাচের জানলার ওপারে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার আনন্দ মিলবে। তবে এই ঘুম দার্জিলিংয়ের চিরচেনা ঘুম স্টেশন নয়। কলকাতার কাছে নিউটাউনের ইকোপার্কে তৈরি করা হয়েছে ঘুম স্টেশনের রেপ্লিকা! সেখান থেকে টয় ট্রনে উঠে ঘোরা যাবে গোটা ইকোপার্ক। প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে দেখা যাবে বিশ্বের ‘সেভেন ওয়ান্ডার্স’।
এই শীতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র ইকোপার্ক। বড়দিন, বর্ষবরণে তিলধারণের জায়গা থাকে না। এখানে বিনোদনের একাধিক ব্যবস্থা আছে। ইকোপার্কে দীর্ঘদিন ধরে চলছে টয় ট্রেন। তবে সেটি পাহাড়ে যেমন চলে তেমন টয় ট্রেন নয়। কারণ কোনও রেললাইন এখানে নেই। রবারের চাকায় সড়কপথে চলা গাড়ির মতো রাস্তা দিয়ে চলে এই টয় ট্রেন। তবে দেখতে হবহু টয় ট্রেনের মতো। আগে এখানে দু’ধরনের টয় ট্রেন চলত। এসি এবং নন এসি। হিডকো কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বর্তমানে তাতে যুক্ত হল ভিস্তাডোম কোচ। তিন নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে যেখানে ঘুম স্টেশনের রেপ্লিকা রয়েছে সেখান থেকে ছাড়ছে ভিস্তাডোম কোচ। এর জন্য একটি পৃথক টিকিট কাউন্টার খোলা হয়েছে। এই নয়া টয় ট্রেনে সফর করতে যাত্রী পিছু ভাড়া ৩০০ টাকা। তিন নম্বর গেটের সামনে থেকে ছাড়ার পর দু’নম্বরের সামনে দিয়ে এক নম্বর হয়ে গোটা ইকোপার্ক ঘুরে আবার থামবে তিন নম্বর গেটের কাছে। সবমিলিয়ে সফর করতে সময় লাগবে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট।
এসি এবং নন এসি টয় ট্রেনের জন্য দু’নম্বর গেটের ভিতরে টিকিট কাউন্টার রয়েছে। নন এসির ভাড়া ১৫০ এবং এসির ভাড়া ২৫০। ভিস্তাডোমে চড়ার জন্য আরও ৫০ টাকা বেশি। এ নিয়ে যাত্রীদের উচ্ছ্বাস কম নয়। ভিস্তাডোমে উঠে সেলফি। বাইরে দাঁড়িয়ে ইনস্টাগ্রামে রিলস। সপরিবারে বেড়াতে এসেছিলেন মৌমিতা দত্ত। তিনি বলেন, ‘দার্জিলিং নাই বা হোক। সমতল হলেও তো স্টেশনের নাম ‘ঘুম’। টয় ট্রেনের আনন্দের সঙ্গে ভিস্তাডোম কোচ। এই বা কম কী!’