


অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: শতাব্দী প্রাচীন ‘গঙ্গাজলি’কে কার্যত বিদায় দেওয়া হচ্ছে। তার জায়গায় আনা হচ্ছে ‘যমুনা সফেদ’। রাজ্যের রসুন চাষ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘বিপ্লব’ আনতে ওই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে পথ দেখাচ্ছে হুগলি। জেলা উদ্যানপালন কর্তাদের দাবি, রাজ্যের মধ্যে প্রথম উন্নত জাতের নতুন রসুনের চাষ হচ্ছে হুগলিতেই। সুন্দর নধর রসুন, দুধসাদা রঙ, আকারে বড় কোয়া নিয়ে ‘যমুনা সফেদ’ বাংলার রসুনের চাহিদাকে স্থায়ীভাবে মেটাতে পারবে। সেই সঙ্গে প্রথমবারের চাষ থেকেই তৈরি করা হবে বীজ, যা রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলার একগুচ্ছ কৃষককে নিয়ে চাষের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই কাজ শুরু হবে।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের একটি উচ্চমানের সরকারি গবেষণা কেন্দ্র থেকে নতুন ওই বীজ রসুন আনা হয়েছে। এটি কৃষিবিজ্ঞানী মহলে পরিচিত জি-২৮২ নামে। তবে এর সাধারণ নাম যমুনা সফেদ। যমুনা সফেদের অনেকগুলি ভ্যারিয়ান্ট বা প্রকার আছে। তার মধ্যে যমুনা সফেদ-৩কে বাংলায় চাষের জন্য বাছা হয়েছে। কারণ, ওই রসুন রপ্তানিযোগ্য গুণমানের। ফলে বলা যায়, রসুন চাষে স্বনির্ভর হয়ে ভবিষ্যতে রপ্তানির দিকেও চোখ রাখছে বাংলা। অর্থাৎ লক্ষ্য সুদূরপ্রসারি।
হুগলির জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, গঙ্গাজলি থেকে যমুনা সফেদে উত্তরণ আমাদের জন্য অনেকগুলি পথ খুলে দেবে। উন্নত গুণমান, দেখতে ভালো, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন, বেশি ফলনের সুযোগ যমুনা সফেদে আছে। রাজ্যে প্রথম হুগলিতে ওই চাষ শুরু হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের ঘরেই বীজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রেখেছি। নতুন ওই রসুন সংরক্ষণ করেও রাখা যাবে।
যমুনা চাষে বিপুল আগ্রহ দেখিয়েছেন বলাগড়ের ভবানীপুরের কৃষক সুদেব দাস। তিনি বলেন, যা বুঝেছি, তাতে রসুনের চাষে নতুন ‘সাদা বিপ্লব’ হতে যাচ্ছে। বলাগড়ে আমরা ব্যাপকভাবে নতুন জাতের ওই রসুন চাষ করব। আমি ইতিমধ্যেই পেঁয়াজের সংরক্ষণাগারের জন্য আবেদন করেছি। তাতে অসময়ে বাজারে রসুন সরবরাহ করতে পারব। গোটা পরিকল্পনায় ব্যাপক খুশি হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে। তিনি বলেন, হুগলি বাংলাকে নিজস্ব জাতের পেঁয়াজ দিয়েছে। এবার রসুনও দেবে। চাষের ইতিহাসে নতুন ধারার সূচনা হবে। হুগলি তথা বাংলাতে বছরের পর বছর ধরে গঙ্গাজলি ও কটকি নামে দু’টি জাতের রসুন চাষ হয়। এমনিতেই বাংলায় রসুন চাষে আগ্রহ কম। তার উপরে ওই দু’টি জাতের বীজ পুরনো হয়ে যাওয়া ফলন কমছিল। ফলে, দেশের অন্য রাজ্য, এমনকী বিদেশ থেকেও চড়া দামে রসুন আমদানি করা শুরু হয়েছিল। তাতে শুধু রাশ টানাই নয়, বাংলাকে রসুনে স্বনির্ভর করার পথ খুঁজেছে রাজ্য। হুগলিতে তারই মাধ্যম হতে চলেছে ‘সাদা যমুনা’।