


ওয়াশিংটন: মধ্য ইরানের ইসফাহান শহরে ফের বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলল মার্কিন বাহিনী। গত বছর জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে এই শহরেরই একটি পরমাণু কেন্দ্রকে নিশানা বানাতে ২ হাজার পাউন্ড (৯০৭ কিলোগ্রাম) ওজনের এই দানব বোমার ব্যবহার হয়েছিল। আর এবার হামলা চলল একটি অস্ত্রাগারে। মাটির বহু নীচে ভূগর্ভে গড়ে তোলা সামরিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকার এই ভয়ংকর বোমার জুড়ি নেই। ইসফাহানের অস্ত্রাগারে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলার ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা সেই ভিডিয়োতে অন্ধকার আকাশে আগুনের বিশাল গোলা দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও একাধিক বিস্ফোরণের ছবি সামনে এসেছে। ইসফাহানে ফের বাঙ্কার বাস্টার নিক্ষেপ নিয়ে ইরান এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পালটা হামলা বজায় রেখেছে। পারস্য উপসাগরে তেল বোঝাই কুয়েতের একটি বিশাল ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে তেহরান। পাশাপাশি আজ, বুধবার থেকেই মাইক্রোসফ্ট, গুগল, আইবিএম, অ্যাপল, টেসলার মতো ১৮টি মার্কিন সংস্থাকে টার্গেট করা হবে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইসফাহান শহর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনাচক্রে একদিন আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান শর্ত না মানলে বিদ্যুৎ ও সামরিক কেন্দ্রগুলিতে ভয়ানক হামলা চালানো হবে। কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই শহরকে আমেরিকা ফের নিশানা বানানোয় পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাসার ফায়ার-ট্র্যাকিং স্যাটালাইটের তথ্য বলছে, এদিনের হামলায় ইসফাহানের মাউন্ট সোফির কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই এলাকাটি ইরানের সামরিক ঘাঁটি বলে পরিচিত। এক মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাঙ্কার বাস্টার বা বড়ো পরিমাণে পেনিট্রেটর মিউনিশনের ব্যবহার করা হয়েছে। নিশানা বানানো হয়েছে অস্ত্রের একটি বিশাল ডিপো। সেখানে থাকা মিসাইল, রকেট ও অন্যান্য বিস্ফোরক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ১৩ জুন ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে শুরু হয়েছিল ১২ দিনের যুদ্ধ। ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে সেবার ২২ জুন ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের অনুমান, এই পরমাণু কেন্দ্রের গর্ভেই ইরান লুকিয়ে রেখেছে উচ্চ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার। যদিও গত বছরের ওই হামলায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে চলতি যুদ্ধে যেভাবে ইসফাহানের সামরিক কাঠামোয় বাঙ্কার বাস্টার বোমার ব্যবহার করল আমেরিকা, তাতেই স্পষ্ট ইরানের এই শহরটিতে ওয়াশিংটনের বিশেষ নজর রয়েছে। স্থলপথে মার্কিন বাহিনীর অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ইসফাহানের তথাকথিত পরিশোধিত ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে, ৯ জুন একটি স্যাটেলাইট ছবি সামনে এসেছিল। সেখানে দেখা গিয়েছিল, ট্রাকে চাপিয়ে ১৮টি নীল কন্টেনার ঢোকানো হচ্ছে ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের টানেলে। বুলেটিন অব অ্যাটমিক সায়েনটিস্ট-এর বিশ্লেষক ফ্রাঙ্কোইস দিয়াজ-মৌরিনের দাবি, সম্ভবত তাতে ছিল মে ৫৩৪ কিলো ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম। অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ পরিশুদ্ধকরণের পথে যা বড়ো সাফল্য।