


ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ধন-মান যাওয়ার উপক্রম আমেরিকার। এবার যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালাতে পারলে বাঁচেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই করুণ অবস্থার কথা সহযোগীদের জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এমনটাই খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, এতদিন হরমুজ খুলে দেওয়া নিয়ে দৌত্য চালাচ্ছিল তাঁর প্রশাসন। সেই দৌত্য থেকেও সরে আসবে তারা। আদতে যুদ্ধের খরচ চালাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা আমেরিকার। এই অবস্থায় আরবের বন্ধু দেশগুলির থেকে সেই খরচ সংগ্রহ করা হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। তবে এই নিয়ে সাবধানী লেভিট বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট এই নিয়ে আরব দেশগুলির সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। বিষয়টি বিশদে তাঁর থেকেই জানতে পারবেন।’
ট্রাম্পের জন্যই বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তাই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের উপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছিল আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সেখানেও আমেরিকার অসহায়ত্ব ধরা পড়েছে। স্বয়ং ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আমেরিকার থেকে তেল কিনুক দেশগুলি। নয়তো নিজেরাই তেলের ব্যবস্থা করে নিক। এদিন ট্রুথ সোশ্যালে নতুন করে ইরানের উপর আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ইরানের গ্রহণযোগ্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে চুক্তি না হলে এবং হরমুজ বন্ধ রাখলে ইরানের তেল পরিকাঠামোয় আরও কঠিন আক্রমণ চালানো হবে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, নৌসেনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছিল আমেরিকা। এখন সেই লক্ষ্য পূরণকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাছাড়া,সংঘাত প্রশমিত করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য তেহরানের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশলেই জোর দেওয়া হবে। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে হরমুজ খোলার জন্য ইউরোপীয় সহযোগী এবং উপসাগরীয় দেশগুলিকে উদ্যোগী হতে বলবে আমেরিকা।
এই পরিস্থিতে বিশ্ববাসীর প্রশ্ন একটাই, যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে? এপ্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগনের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই চার থেকে ছ’সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এখন তো চার সপ্তাহ চলছে। সে হিসাবে এখনও দু’সপ্তাহ সময় রয়েছে। অঙ্কটা বুঝুন। প্রেসিডেন্ট ১০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চাইছেন।’ আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের অসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। আমেরিকাকে যুদ্ধপরাধী ঘোষণার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এই নিয়ে লেভিট বলেন, মার্কিন বাহিনী সবসময় আইন মেনে কাজ করে।