Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ধমানে গ্রেপ্তার দুই পাকিস্তানি চর

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও’র মুখোশের আড়ালে সক্রিয় আইএসআই। আর সেই এনজিও’র কাজের অজুহাতে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার টার্গেট এখন ভারতীয় সিম কার্ডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করা।

বর্ধমানে গ্রেপ্তার দুই পাকিস্তানি চর
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ১১:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও’র মুখোশের আড়ালে সক্রিয় আইএসআই। আর সেই এনজিও’র কাজের অজুহাতে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার টার্গেট এখন ভারতীয় সিম কার্ডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করা। আর তা করতে গিয়েই এবার বাংলায় হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই পাকিস্তানি চর। ধৃতদের নাম মুকেশ রজক ও রাকেশ কুমার গুপ্তা। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। শুধু হোয়াটসঅ্যাপ চালুর জন্য ভারতীয় সিম কার্ডের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাঠানোই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানের তথ্য এই দুই চরের মাধ্যমে পাকিস্তানে গিয়েছে বলে খবর। মুকেশ-রাকেশের সঙ্গে আইএসআইয়ের বড় কর্তাদের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এমনকী ভারতে এই দুই পাক চরের কয়েকজন ‘বস’কেও চিহ্নিত করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তাদের খোঁজ  শুরু হয়েছে।

Advertisement

অপারেশন সিন্দুর শেষ হতে না হতেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা শুরু করেছিলেন অপারেশন মীরজাফর। বিভিন্ন রাজ্য থেকে একের পর এক পাক চরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, ভারতীয় সেনার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা পাচার করেছে পাকিস্তানে। একাজে বিভিন্ন ট্রাভেল ভ্লগারদেরও কাজে লাগাচ্ছে আইএসআই কর্তারা। এমনকী তারা যে বিভিন্ন এনজিও’র নামে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রোফাইল খুলেছে, সেগুলির মাধ্যমে মগজধোলাই চালিয়ে চর নিয়োগ করছে—সেই তথ্যও সামনে আসে তখনই। গোয়েন্দাদের দাবি, ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করেই হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য অ্যাপের মাধ্যমে সেই চরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আইএসআই। পাকিস্তান থেকে আসা ফোন কল ও মেসেজের উপর আড়ি পেতে এমন বেশ কিছু সন্দেহভাজন কল ও মেসেজের হদিশ মেলে। ঝাড়াই বাছাই করে দেখা যায়, এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চারটি ফোন নম্বরে মেসেজ যাচ্ছে। সেই নম্বরগুলির সূত্র ধরেই মেমারির দুই ব্যক্তির খোঁজ মেলে। তাদের সম্পর্কে খোঁজ চালাচ্ছিল এসটিএফও। সমস্ত তথ্য হাতে আসার পর রবিবারই মুকেশ ও রাকেশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেরায় জানা গিয়েছে, মুকেশের বাড়ি পানাগড়ে। আর রাকেশ দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। দু’জনেরই আর্থিক অবস্থা একদম ভালো নয়। রাকেশ অনেকদিন আগেই কলকাতা ছাড়ে। মাকে নিয়ে মেমারিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিল। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রচার চালাত। তা করতে গিয়েই মুকেশের সঙ্গে পরিচয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ কিছু এনজিওর কর্তাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। আসলে সেই প্রোফাইলগুলির মালিক আইএসআই আধিকারিকরা। ‘ছদ্মবেশী’ পাক গুপ্তচর সংস্থার কর্তারা জানায়, মুকেশ ও রাকেশকে তারা সাহায্য করবে। কাজ দেবে। তাদের আরও বলা হয়, ভারতীয় নম্বরে যোগাযোগ রাখা সুবিধাজনক। তাই ‘বাল্ক’ বা একাধিক সিম কার্ড তুলে হোয়াটঅ্যাপের জন্য ওটিপি পাঠাতে হবে দু’জনকে। এর জন্য বাড়তি টাকাও দেওয়া হবে। গত দু’বছর ধরে মুকেশ ও রাকেশ কয়েকশো সিম কার্ডের মাধ্যমে ওটিপি পাঠিয়েছে পাকিস্তানে। বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এসেছে ১৫-২০ হাজার টাকা। অভিযোগ, ওই ওটিপিগুলির মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা চরদের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করছিল আইএসআই। এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে ধরা পড়া পাক চরদের সঙ্গেও রাকেশদের যোগাযোগ ছিল কি না, সেবিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।  

সম্পর্কিত সংবাদ