


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইনি গেরো কাটিয়ে জেল হেফাজতে থাকা জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান সহ ৯ জেএমবি জঙ্গির বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। কলকাতা বিচারভবনের মুখ্য বিচারক সুকুমার রায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। বৃহস্পতিবার আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কড়া নিরাপত্তায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার প্রক্রিয়া চলবে। সরকারি কৌঁসুলি গণেশ মাইত বলেন, ‘২০২০ সালে কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নাশকতার মামলায় বোমা মিজান সহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় ইতিমধ্যে ১২ জন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু বাকি নয়জনের বিরুদ্ধে নানা কারণে বিচার থমকে থাকে। অবশেষে আদালত ওই নয় জঙ্গির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য‑গ্রহণের দিন ধার্য করল।’
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে নাশকতার এক চক্রান্তের মামলায় কলকাতা পুলিসের এসটিএফ ২১ জনকে মামলায় অভিযুক্ত করেছিল। তারমধ্যে বেশ কয়েকজন অন্য মামলায় জেল হেফাজতে ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল শহরের নানা মানচিত্র, ভুয়ো নথিপত্র, বিস্ফোরক। মামলায় তদন্ত শেষ করে পুলিস আদালতে চার্জশিট পেশ করে। শুরু হয় মামলার বিচার। এরপরই নানা সময় বিভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জেরে মামলার গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পরেও এই মামলা পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। তারই মধ্যে নানা সময় বিভিন্ন অভিযুক্ত আদালতে দোষ কবুল করে সাজাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান সহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা শুনানি থমকে থাকে। যদিও ধৃতদের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান ও জাকির হোসেন দাবি করেন, পুলিস আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত ধারায় মামলা করেছে তা সঠিক নয়। শুনানিতে তা আমরা আদালতে তুলে ধরব।
আদালত সূত্রের খবর, এনআইয়ের দায়ের করা খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় এই বোমা মিজান ছিল অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। এই মামলায় ২০২১ সালে কলকাতা নগর দায়রা আদালত এই জঙ্গিকে ২৯ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। বাংলাদেশের এক বিশেষ আদালতও আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় এই জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। কিন্তু জেল ভেঙে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) অন্যতম এই জঙ্গি পালিয়ে আসে ভারতে। খাগড়াগড়ের মামলায় এনআইএ এই জঙ্গিকে ২০১৮ সালে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময় নাশকতার মামলায় কলকাতা পুলিস এই জঙ্গিকে তাদের হেফাজতে নেয়।