


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুলিসের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত করেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কার্যত তাতেই সিলমোহর দিল। গত বুধবার সিঙ্গুরের বোড়াই এলাকার একটি নার্সিংহোম থেকে দীপালি জানা নামে এক ট্রেনি নার্সের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির আকচাআকচি তুঙ্গে ওঠে। নন্দীগ্রামের বাসিন্দা দীপালিকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করে তাঁর পরিবার। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালনাধীন কোনও হাসপাতালে মৃতার ময়নাতদন্তের আর্জি জানায়। সেই মতো ময়নাতদন্ত হয়েছিল কল্যাণী এইমসে। পুলিস সূত্রে খবর, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গলায় ফাঁস দিয়েই মৃত্যু হয়েছে তরুণীর। শরীরের অন্য কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। যদিও পরবর্তী পর্যায়ের তদন্তের জন্য মৃতার ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কিন্তু দীপালি আত্মঘাতী হলেন কেন? পুলিসের তদন্তে উঠে এসেছিল, প্রেমিকের সঙ্গে দীপালির বিয়ে নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। সিঙ্গুরে কাজে যোগ দিতে আসার আগে ডানকুনির হোটেলে দু’জন রাত্রিবাসও করেছিলেন। দীপালির প্রেমিক রাধাগোবিন্দ ঘটক বয়সে তাঁর প্রেমিকার থেকে ছোট। প্রাথমিক আলাপ থেকে প্রেম, তারপর ঘনিষ্ঠতা—সম্পর্কের কোনও পর্বেই বয়সের তফাৎ বাধা হয়নি। কিন্তু বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই গোল বাধে। নিজের থেকে বেশি বয়সের কাউকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না রাধাগোবিন্দ। তা নিয়েই সমস্যা তৈরি হয়। পুলিসের অনুমান, এই কারণেই আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন দীপালি। ঘটনার সূত্র ধরে রাধাগোবিন্দের ফোন সহ একধিক নথি বিশ্লেষণ করছে পুলিস।
উল্লেখ্য, দীপালির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বাসিন্দা রাধাগোবিন্দকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাছাড়া, ঘটনার আগের রাতে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের মালিক দীপালির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাই তদন্তের স্বার্থে নার্সিংহোম মালিককেও পুলিস গ্রেপ্তার করে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দিতে চায়নি পুলিস। তবে হুগলি (গ্রামীণ) পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘আমরা প্রথমদিন থেকে বলেছি, নিয়ম মেনে তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা এখনও সেই নিষ্ঠা নিয়েই কাজ করছি।’
কাজে যোগ দেওয়ার তিনদিনের মাথায়, ১৩ আগস্ট রাতে নার্সিংহোমের চারতলার একটি ঘর থেকে দীপালির ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে মৃতার পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হন পরিবারের সদস্যরা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনা নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব কারণে রাজ্য সরকারের আওতাধীন কোনও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করাতেই চায়নি পরিবার। এনিয়ে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে এক দফা হট্টগোল হয়। শেষ পর্যন্ত ১৬ আগস্ট পরিবারের দাবি মেনে কল্যাণী এইমসে ময়নাতদন্ত হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিডিওগ্রাফি করে ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মঙ্গলবার সরকারিভাবে সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।