Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রং-বাহারি সভায় ঘনঘন আবেগের ওঠাপড়া দেখল ঐতিহ্যের শ্রীরামপুর, গান-কবিতা-সওয়াল জবাবে জমজমাট মঞ্চ

রাজনৈতিক সভা হলেও তাকে ঘিরে হাজারো রংবাহার। মঞ্চে কখনও গান, কখনও কবিতা, কখনও কোর্টের সওয়াল-জবাব। আবার ছিল নিখাদ রাজনৈতিক আক্রমণও।

রং-বাহারি সভায় ঘনঘন আবেগের ওঠাপড়া দেখল ঐতিহ্যের শ্রীরামপুর, গান-কবিতা-সওয়াল জবাবে জমজমাট মঞ্চ
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজনৈতিক সভা হলেও তাকে ঘিরে হাজারো রংবাহার। মঞ্চে কখনও গান, কখনও কবিতা, কখনও কোর্টের সওয়াল-জবাব। আবার ছিল নিখাদ রাজনৈতিক আক্রমণও। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভা ছিল হরেক ফুলে গাঁথা তোড়ার মতো। নানা রঙের এমন অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে দর্শকাসন থেকে কখনও হাততালি পড়েছে, কখনও বা আওয়াজ উঠেছে। কখনও দর্শকরাও গলা মিলিয়েছেন গানে। এক একটা সময় প্রতিবাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতও উঠেছে আকাশ লক্ষ্য করে। আদ্যন্ত এক সুরেলা কনসার্টের মতো মুগ্ধতায় মেতেছিল মধ্যদুপুরের শ্রীরামপুর স্টেডিয়াম মাঠ।

Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আড়াইটের সময় মঞ্চে আসেন। এসেই গায়ক-নেতা তথা চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে গান ধরতে বলেন। তখনই সুর-তালের ছন্দ বাঁধা হয়ে গিয়েছিল। এরপর প্রায় ঘণ্টাখানেকের সভায় ঘুরে ফিরে এসেছে কবিতা। কখনও নিখাদ ছড়া। নিজস্ব ঘরানায় সুর-তাল-ছন্দ জুড়ে কথা বলে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। আর তালে তালে দুলেছে ভিড়, মহিলা থেকে পুরুষ। এমনিতেই মঞ্চ ও চারপাশ ছিল রঙিন। তার উপরে মহিলাদের বিপুল উপস্থিতি বাড়তি রঙের কোলাজ জুড়েছিল। সেসবের মোহন মায়ায় ভরদুপুরের রোদকে তুচ্ছ করে মাথা দুলিয়েছেন সোনিয়া, সুস্মিতা, ভাস্বতীরা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না, কেউ রুখে দিতে পারবে না। মঞ্চ থেকে আওয়াজ তুলেছেন নেত্রী। আর করতালিতে মুখর হয়েছে সভা। ভাগিরথী লেনের বাসিন্দা সুস্মিতা মালিক তখন পাশে বসা মহিলাদের বলছেন, এক লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কত মহিলার জীবন বদলে গিয়েছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরাও প্রশংসা করেছেন। শুনে মাথা দুলিয়েছে মহিলা মহল। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, মেয়েদের বিয়ে হলে পদবি বদলায়, সেই জন্য নাম বাদ? সোনিয়া সিং তখন একটু নড়েচড়ে বসলেন। কান খাড়া করলেন আরও অনেকে। ততক্ষণে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে শাণিত আক্রমণে মেতেছেন মমতা। মহিলা ব্লকে তখন করতালির ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এসআইআর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এদিন মঞ্চকেই কোর্ট-রুম বানিয়ে দিয়েছিলেন ঘাসফুল নেত্রী। আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধি বানিয়ে ফেলেন। চলে চোখা চোখা প্রশ্ন। দুপুরের রোদের উত্তাপ তখন ছড়িয়ে পড়েছে ভিড়ের আনাচে কানাচে। প্রভাস দে, সমীর সাহাদের মতো ঘাসফুল সমর্থকরা ‘দিদি’র যুক্তির সমর্থনে ঘনঘন মাথা নেড়েছেন। আন্দোলিত হয়েছে ভিড়। ইভিএমে কারচুপি নিয়ে প্রতিরোধের কথা বলেছেন মমতা। মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ধরেছেন মল্লিকপাড়ার ভাস্বতী রায়। আশপাশ থেকে তখন উঠছে শতশত হাত। ডানলপকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে বিঁধেছেন মমতা। শ্রীরামপুরের শিল্পবলয় থেকে আসা ভিড় আলোড়িত হয়েছে। মমতার লেখা গান গাওয়া হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের মতো উথালপাথাল সভায় নিজেও একপ্রস্থ নাচে শামিল হয়েছেন ঘাসফুল নেত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ