


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সারা দেশের পাশাপাশি এবার এরাজ্যেও আলুর ‘বাম্পার’ ফলন হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে হিমঘরগুলিতে আলু মজুতের পরিমাণ বাড়ে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ব্যবসায়ী ভিনরাজ্যে আলু পাঠিয়েছেন। তারপরও উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমজনতা কম দামেই আলু খেতে পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই সময়ে অন্তত আলুসিদ্ধ-ভাত খেয়ে দু’বেলা দিনযাপন করতে অসুবিধে হচ্ছে না। কিন্তু একশ্রেণির ব্যবসায়ী বাড়তি লাভের জন্য আরও বেশি আলু ভিনরাজ্যে পাঠানোর জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে। সেটা হলে খুচরো বাজারে আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের এই ভূমিকায় ক্ষোভে ফুঁসছে আমজনতা। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে ৫১৯টি হিমঘরে মোট ৭০.৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষিত হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ আলু হিমঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৪৮০.১৮ কুইন্টাল আলু বাইরে বেরিয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ১৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৩১.৭৪ কুইন্টাল আলু হিমঘর থেকে বেরচ্ছে। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চাষিদের পাশে দাঁড়াতে সরকার আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কেজি প্রতি ন’টাকা ঘোষণা করেছিল। তার প্রভাব বাজারে পড়ে। সরকার মিড ডে মিল, সংশোধনাগার সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার আলু কিনে রেখেছে। আধিকারিকদের একাংশের অভিযোগ, এক শ্রেণির হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ী ভুল তথ্য দিয়ে জনতাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এরাজ্যের চাষি ও ব্যবসায়ীরা আলুর দাম পাচ্ছেন না। কিন্তু সেই দাবি সঠিক নয়। উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদে ৫০ কেজি হাইব্রিড রেডি আলু ২৮০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারমধ্যে স্টোর ভাড়া, লোডিং, আনলোডিং এবং ‘ড্রাই’ খরচ হিসেবে প্রতি ৫০ কেজি বস্তায় চাষিদের ১৫৫-১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য জায়গাতেও আলুর বাজারদর প্রায় এক। সেই তুলনায় বাংলার কৃষকরা আলুর দাম বেশি পাচ্ছেন।