রাস্তার উপর রাখা পাথরের ফলক। দেখতে অনেকটা গাড়ি বা বাসের নম্বর প্লেটের মতো। তাতে লেখা, ‘টোয়েনবি আইডিয়া/ ইন কিউব্রিক্স ২০০১/ রেসারেক্ট ডেড অন প্ল্যানেট জুপিটার।’ নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে ডেট্রয়েট—আমেরিকার একাধিক বড় শহরে এই ধরনের বিচিত্র ফলক চাক্ষুষ করা যায়। দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু শহরেও এই পাথরের ফলকের সন্ধান মেলে। এই প্রস্তর ফলক ‘টোয়েনবি টাইলস’ হিসেবে পরিচিত। তবে রাস্তায় এগুলি কে বসাল? এই লেখার অর্থই বা কী?
‘টোয়েনবি টাইলস’ কে বসিয়েছিল, তা আজও স্পষ্ট নয়। নয়ের দশক থেকে একাধিক সংবাদপত্রের খবরের বিষয় হয়ে ওঠে এই ফলক। তার বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই অবশ্য রাস্তায় এই ধরনের ফলকগুলিকে প্রথম দেখতে পান বাসিন্দারা। তবে খবরের কাগজে এনিয়ে পড়ার পর আগ্ৰহ বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা একে একে রহস্য উন্মোচনে নেমে পড়লেন। শেষমেষ চলতি শতকের প্রথম দশকে এই সঙ্কেতের সমাধান করেন ফিলাডেলফিয়ার এক তরুণ। নাম জাস্টিন ড্যুয়ার। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে জাস্টিন জানতে পারলেন, এই টোয়েনবি হলেন বিশ শতকের ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক স্যার আর্নল্ড টোয়েনবি। তাঁর বই ‘এক্সপিরিয়েন্সস’-এ থাকা একটি তত্ত্বকেই আসলে টোয়েনবি আইডিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসলে এই উপন্যাসের মূল বিষয় হল পুনর্জন্ম। আনর্ল্ডের বিশ্বাস অনুযায়ী, পৃথিবীতে মৃত্যুর পর মানুষ বৃহস্পতি গ্ৰহে জন্মগ্ৰহণ করে। ভিনগ্ৰহী হিসেবে। তবে শুধু টোয়েনবি নন, একই বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছেন কল্পবিজ্ঞানের অন্যতম রচয়িতা স্যার আর্থার সি ক্লার্ক। আর্নল্ডের লেখা পড়েই এই রচনা। তাই পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার রকেটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টোয়েনবি আর্নল্ড’। এই বিষয় নিয়ে একাধিক সিনেমা, তথ্যচিত্রও হয়েছে। তবে আচমকা আর্নল্ডের এই তত্ত্ব রাস্তায় রাস্তায় কে বসিয়ে দিয়ে গেল? উত্তর আজও রহস্যের কুয়াশায় ঢাকা।