নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৮ মে পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি থাকবে। তারপর ১৫ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ও উত্তরবঙ্গের মালদহ ও দুই দিনাজপুরে জেলায় তাপমাত্রা বাড়বে। ওই সময়ে ব্যাপকভাবে না-হলেও দক্ষিণবঙ্গের কোনও কোনও জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গেও ৮ তারিখের পর ঝড়বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কমবে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে এটা জানিয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সাপ্তাহিক দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী ১০ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও আরবসাগরে কোনও নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বিশেষ নেই। প্রসঙ্গত, এপ্রিল-মে মাস দুটি বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল সময়। এই সময়ে দুটি সমুদ্রে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হলে সেটি শক্তি বাড়িয়ে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্ক থাকে। তাই এপ্রিল-মে মাসে বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে কোনও নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা হলে আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ নজরদারি শুরু হয়ে যায়। গত কয়েকবছর ধরে দেখা গিয়েছে, মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলে কোনও না কোনও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব রাজস্থান ও সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশে একটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। অক্ষরেখাটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের উপর একটি ঘর্ণাবর্তও আছে। এই পরিস্থিতির জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি করছে। অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তটি আগামী দিনে অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু তা হলেও আগামী ৮ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে মাঝে মাঝে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৃহস্পতিবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় জোরালো ঝড়বৃষ্টি হয়। কোনও কোনও জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সেরকম হয়নি।। শনিবার ঝড়বৃষ্টির মাত্রা ফের বাড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গে।