Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪ থানার রুদ্ধশ্বাস অপারেশন, ফিরলেন বেলুড়ের ২ ব্যবসায়ী

৪ থানার রুদ্ধশ্বাস অপারেশন, ফিরলেন বেলুড়ের ২ ব্যবসায়ী
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার মুক্তিপণ না দিলে মেরে ফেলা হবে দুই ভাইকেই। অপহরণকারীদের ফোন পেতেই মাথায় হাত পড়েছিল পরিবারের। অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের পাকড়াও করতে শুরু হয় ১০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপারেশন। চার থানার আধিকারিকদের যৌথ চেষ্টা ও বুদ্ধিমত্তায় অবশেষে সুস্থভাবে ঘরে ফিরলেন বেলুড়ের অপহৃত দুই ব্যবসায়ী সমীর খান ও তাঁর ভাই মহম্মদ অম্বর খান। গ্রেপ্তার হয় ৫ অপহরণকারী। এই অপহরণের পেছনে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক শত্রুতা থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছেন হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা। ধৃতদের এদিন হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৮ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলুড়ের ভোটবাগান কাশী মণ্ডল লেনের বাসিন্দা সমীর খান ভাঙাচোরা সামগ্রীর ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাই অম্বরকে নিয়ে ব্যবসা সংক্রান্ত কাজেই নদীয়ার শান্তিপুরে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাও হয় তাঁদের। এরপর রাত বারোটা নাগাদ সমীরের ফোন থেকে পরিবারের কাছে অপহরণকারীদের ফোন আসে। দু’জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মোট সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে বেলুড় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। তৎক্ষণাৎ হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসিপি নর্থ ও এসিপি নর্থ-২ এর নেতৃত্বে বেলুড় থানায় তৈরি করা হয় বিশেষ কন্ট্রোল রুম। অপহৃত ব্যবসায়ী ও অপহরণকারীদের দু’টি ফোন নম্বরের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বেলুড় থানার পুলিস আধিকারিকদের একটি দল নদীয়ায় রওনা দেন। কল্যাণী ও রানাঘাট থানার সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়। ততক্ষণে দুই ব্যবসায়ীকে নিয়ে অপহরণকারীরা ফরাক্কার দিকে চলে যায়। শুক্রবার ভোরে ফরাক্কার একটি হোটেল থেকে দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের পাশাপাশি পাঁচ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করে ফরাক্কা থানার পুলিস। এদিন ভোরে তাদের হাওড়ায় নিয়ে আসা হয়।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসি নর্থ বিশপ সরকার বলেন, ব্যবসায়ীরা যে গাড়িতে করে নদীয়ায় গিয়েছিলেন, সেটিকে রানাঘাটের আশপাশে কোথাও ফেলে রাখা হয়েছে। গাড়িটির খোঁজ চলছে। তবে অপারেশন চলাকালীন অপহরণকারীরা যাতে ওই দুই ব্যবসায়ীর কোনও ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য তাদের পাঠানো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে ৭০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। যদিও প্রতিটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। 
এই অপহরণের পিছনে ব্যবসায়িক শত্রুতা থাকতে পারে বলে মনে করছেন পুলিসকর্তারা। জানা গিয়েছে, অপহরণকারীদের মধ্যে অভিজিৎ বালা নামের একজন চাকদহের বাসিন্দা রয়েছে। তাকে সম্ভবত আগে থেকেই চিনতেন অপহৃতরা। এই ব্যক্তির টোপেই শান্তিপুরের দিকে গিয়েছিলেন তাঁরা। অপহরণের পর মালদা পেরিয়ে অভিযুক্তরা বিহারে চলে যাওয়ার ছক কষছিল। কিন্তু নির্বাচনের কারণে রাজ্য সীমান্তে নাকা চেকিং চলায় তারা পালাতে পারেনি। 
সম্পর্কিত সংবাদ