


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: কোনও ব্যক্তি যদি ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রোমোটারের কাছে অগ্রিম টাকা জমা করেন এবং পরবর্তীকালে ফ্ল্যাটটি না কিনতে চান, তাহলে তিনি অগ্রিম জমা করা টাকা ফেরত পেতে পারেন। আবাসন সংক্রান্ত আইন ‘রেরা’ (রিয়েল এস্টেট রেগুলেশন অ্যাক্ট) ক্রেতাকে এই সুবিধা প্রদান করেছে। অগ্রিম জমা করা টাকা সুদ সহ ফেরত দিতে হবে প্রোমোটারকে। কিন্তু সুদের হার কত হবে? এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের রেরা সংক্রান্ত বিধিতে (ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রুলস ২০২১) কিছু অস্পষ্টতা ছিল। বৃহস্পতিবার একটি রায়ে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দিল রেরা ট্রাইবুনাল। তারা রাজ্যের আবাসন দপ্তরকে রেরা বিধিতে সংশোধনী আনার সুপারিশ করেছে। বলা হয়েছে, সুদ প্রদান করার ক্ষেত্রে দেশের বড় রাজ্যগুলি যে বিধি লাগু করেছে, এরাজ্যেও সেটাই কার্যকর করা হোক। তাতে সুদের হিসেবে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বোলপুরের একটি বাংলো কেনার জন্য প্রোমোটারকে ৭ লক্ষ ৯ হাজার টাকা অগ্রিম দেন এক ব্যক্তি। পরবর্তীকালে তিনি বাংলো কিনতে অনিচ্ছুক হওয়ায়, প্রোমোটার তাঁকে চারটি কিস্তিতে টাকা মিটিয়ে দেন। কিন্তু সুদের টাকা মেটানোয় সমস্যা হওয়ায় রাজ্য রেরা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়, রাজ্যের রেরা বিধি অনুযায়ী তাঁকে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রাইম লেন্ডিং রেট অনুযায়ী সুদ মেটাতে হবে। সঙ্গে দু’শতাংশ হারে সুদের উপর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু প্রোমোটার তা দিতে রাজি হননি। বাংলো কিনতে নারাজ ক্রেতা দাবি করেন, স্টেট ব্যাঙ্কের বেঞ্চমার্ক প্রাইম লেন্ডিং রেট অনুযায়ী সুদ মেটাতে হবে প্রোমোটারকে। সঙ্গে দিতে হবে দু’শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ। এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন প্রোমোটার। তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল স্টেট অ্যাপেলেট ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার রায়দান করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ সামন্ত ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ মেম্বার সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সেই রায়ে বলা হয়, সুদ মেটাতে হবে স্টেট ব্যাঙ্কের মার্জিনাল কস্ট ভিত্তিক লেন্ডিং রেট (এমসিএলআর) অনুযায়ী, বেঞ্চমার্ক প্রাইম লেন্ডিং রেট অনুযায়ী নয়। পাশাপাশি বলা হয়েছে, রাজ্যের রেরা বিধিতে প্রাইম লেন্ডিং রেট অনুযায়ী সুদ মেটানোর কথা বলা আছে। রায়ে সুপারিশ করা হয়েছে, এই অস্পষ্টতা কাটানোর জন্য রেরা আইনের ১৭ নম্বর বিধিতে সংশোধন করে বলা হোক, স্টেট ব্যাঙ্কের প্রাইম এমসিএলআর অনুযায়ী সুদ মেটাতে হবে। বা এমন কোনও বেঞ্চমার্ক প্রাইম লেন্ডিং রেট বা সুদের হারের কথা বলা হোক, যা স্টেট ব্যাঙ্ক সাধারণ মানুষকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করে। এর স্বপক্ষে রায়ে মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু অসমের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মার্জিনাল প্রাইম লেন্ডিং রেটের কথাই বিধিতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্যের বিধিতে শুধুমাত্র প্রাইম লেন্ডিং রেটের কথা বলা হয়েছে। সেটি এমসিএলআর কি না, তা স্পষ্ট করা নেই। রাজ্য রেরা কর্তৃপক্ষ তাই বেঞ্চমার্ক রেটের কথা বলেছে। এদিকে যে সময় বেঞ্চমার্ক রেট চালু ছিল, সেই সময় সুদের হার অনেক বেশি ছিল। এই সুদের হারটি এখন স্টেট ব্যাঙ্ক আর মেনে চলে না। ওই জায়গায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপোরেট এর উপর ভিত্তি করে তারা এমসিএলআর চালু করেছে। সেই রেট যদি মেনে চলা হয়, তা হবে অনেক স্পষ্ট, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।