


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সদর কার্যালয়ের সামনে থেকে পাঁচদিনের মাথায় অবস্থান আন্দোলন তুললেন যোগ্য শিক্ষকরা। শুক্রবার বেলায় সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা করেন যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের নেতা মেহবুব মণ্ডল। স্কুলে যোগ দেওয়া এবং মামলার প্রস্তুতির জন্যই তাঁদের আন্দোলন তুলতে হল বলে জানান তিনি। তবে, এসএসসির পাঠানো তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁরা রবিবার পর্যন্ত শহিদ মিনারে অবস্থান করবেন। তালিকা ঠিক হলে তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। যদিও, আদালতের রায়ে ‘টেইন্টেড’ বলে চিহ্নিত শিক্ষকরা এসএসসি ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
২১ এপ্রিল বড় মিছিল করে এসএসসির সামনে বসেন শিক্ষকরা। সেদিন রাত থেকেই ঘেরাও শুরু হয় এসএসসি ভবন। আটকে থাকেন এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারও। ২৩ এপ্রিল সকালে আদালতে হাজিরার জন্য তাঁকে ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। তার মধ্যে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ফলে আন্দোলনের তীব্রতা কমতে থাকে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করে আন্দোলনস্থল। তবে, এর মধ্যেই আবার সেখানে এসে বসেন টেইন্টেড শিক্ষকরা। এমনকী, শুক্রবার সকালে তাঁদের সঙ্গে যোগ্য শিক্ষকদের হাতাহাতিও বাধে। অধিকার মঞ্চের নেতা চিন্ময় মণ্ডল অভিযোগ করেন, তাঁকে মারধরও করেছেন টেইন্টেডরা। এই শিক্ষকরা অবশ্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, সিবিআইয়ের তালিকাকে সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দেয়নি। তাই, সেই তালিকা অনুযায়ী তাঁদের টেইন্টেড বলা যাবে না।
একই সঙ্গে করুণাময়ী মোড়ে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাকর্মীরাও। শিক্ষকদের মধ্যে যোগ্যদের স্কুলে ফেরা এবং বেতন প্রদানে ছাড় দিলেও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে তা বলেনি সুপ্রিম কোর্ট। তাই তাঁদের বক্তব্য, যোগ্য প্রায় ৩৩০০ শিক্ষাকর্মীর সঙ্গে বঞ্চনা হয়েছে। রাজ্য সরকার তথা পর্ষদকে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তাঁদের মতোই রায় আদায় করে নিয়ে আসতে হবে। যতক্ষণ তা না হবে, ততক্ষণ সেই আন্দোলন তাঁরা চালিয়ে যাবেন।