নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনের প্রচারে স্থানীয় ইস্যুতে ‘ফোকাস’ করতে চাইছে বামফ্রন্ট। সেজন্যই একেবারে স্থানীয় স্তরে, বিধানসভা আসন ভিত্তিক ইস্তাহার প্রকাশ করা হবে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য বছরের প্রচারের তুলনায় ছক ভাঙা পথেই হাঁটা শুরু করেছেন বাম প্রার্থীরা। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময়ই বলেছিলেন, ‘আমরা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক প্রচার পরিকল্পিতভাবে করতে চাই। আমাদের সহযোগী, অর্থাত্ আইএসএফ, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের কাছেও এমন আবেদন রেখেছি। তারাও এই বিষয়ে সহমত হয়েছে। প্রচারের ধাঁচা ভিন্ন প্রকৃতির হবে।’
কেমন ভিন্ন প্রকৃতির? ইতিমধ্যেই রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা আসনের সিপিএম প্রার্থী সপ্তর্ষি দেব এবং কোচবিহার উত্তরের প্রণয় কার্যী প্রচারের জন্য ইতিমধ্যেই গান বেঁধেছেন। সেই গানে ধরা পড়ছে স্থানীয় নানা রকমের ইস্যু। যেমন কোচবিহার উত্তরের গানে বাংলাভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে, জল-জঙ্গল-জমির কথা বলা হয়েছে। আবার সপ্তর্ষির গানে রাখা হয়েছে, চাকরি-কাজের কথা। পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত বলছিলেন, ‘গানের মাধ্যমে স্থানীয় ইস্যু তো তুলে ধরা হবেই। তার সঙ্গে এখানকার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকেও প্রচারে তুলে ধরা হবে।’ যেমন বেগম রোকেয়া, চৈতন্যর স্মৃতিবিজড়িত পানিহাটির এলাকাগুলো প্রচারে থাকবে। আবার পুরুলিয়াতে যেমন বিখ্যাত ছৌ নাচ। বামেদের প্রচারে সেই বিষয়গুলো উঠে আসবে। পটাশপুরের সিপিআই প্রার্থী সৈকত গিরি বলছিলেন, ‘গ্রামসভা, উঠোনসভায় বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি গান তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে বন্যা, নারীনিরাপত্তা, স্থানীয় স্বাস্থ্য-শিক্ষার উপর নজর দেওয়া হবে।’ আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর, জেলায় জেলায় সার্ভে করা হয়েছে। স্থানীয় ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট নেতাদের পাঠানো হয়েছে। তার উপর ভিত্তি করেই বিধানসভা ভিত্তিক ইস্তাহার প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় মানুষ কী বলতে চায়, সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের সমস্যা, গণপরিবহণের সমস্যা, ট্রাম তুলে দিচ্ছে, বাস নেই, শ্রমিকদের সমস্যা, এগুলো কারা তুলে ধরবে? আমরা বামপন্থীরাই এই নির্বাচনে তুলে ধরব।’ প্রচারের ধাঁচা বদলে খাতা খোলা যাবে কি না, এখন সেটাই দেখার।