Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শাহজাহানের ডানহাত মুসা বাহিনীর জমায়েত আগাম খবরের ভিত্তিতেই

শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে সন্দেশখালিতে আক্রান্ত হয় ন্যাজাট থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের কাছে।

শাহজাহানের ডানহাত মুসা বাহিনীর  জমায়েত আগাম খবরের ভিত্তিতেই
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে সন্দেশখালিতে আক্রান্ত হয় ন্যাজাট থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের কাছে। সূত্রের খবর, পুলিশের উপস্থিতি আগাম জানতে পেরেই সাগরেদদের এলাকায় ডেকে নেয় শাহজাহানের ডানহাত মুসা মোল্লা। তাদের রাখা হয়েছিল পড়শিদের বাড়িতে। অনেকে আবার পুলিশের গাড়ির পিছনে পিছনে আসছিল। মুসার বাড়িতে পুলিশ যেতেই চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলে তার দলবল। শুরু হয় তুলকালাম। ঘটনায় ধৃত ন’জনকে জেরা করে আগেভাগে জমায়েতের বিষয়টি জানতে পেরেছে পুলিশ। একইসঙ্গে এই ঘটনায় বয়ারমারি-২ পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের ভূমিকাও পুলিশের স্ক্যানারে। তবে, এখনও পুলিশের খাতায় অধরা মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা। পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি তালা দিয়ে বেপাত্তা।  

Advertisement

একটা সময় আইজুল গাজির জমিতে ধানচাষ করতেন শাহজাহানের সাগরেদ মুসা মোল্লা। চাষের চার বিঘা জমিকে জবরদস্তি ভেড়িতে পালটে ফেলে নিজের করে নেন তিনি। ভেড়ির মাছের টাকাও আইজুলকে দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। এ নিয়ে আইজুল ও মুসার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে মামলাও হয়েছিল। তারপর বসিরহাট আদালত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু তা মানছিলেন না মুসা। ফলে, তাঁর বাড়িতে একাধিক নোটিস পাঠিয়ে কোর্টে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাও অমান্য করেন। 
তাই শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত মুসাকে ধরতে পুলিশ যায়। তাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা ন্যাজাট থানার অন্তর্গত বাসন্তী হাইওয়ের চুঁচুড়া মোড় এলাকা। এলাকায় শাহজাহানের সাগরেরদের সক্রিয়তা এখনও যে যথেষ্ট রয়েছে, এই ঘটনার পর বাসিন্দারা তা মেনে নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, জেলেও বসে ‘বেতাজ বাদশা’ শাহজাহান! কয়েকদিন আগে বাসন্তী হাইওয়েতে একটি দুর্ঘটনাতেও নাম জড়ায় শাহজাহানের শাগরেদদের। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ আলম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির পর এবার পুলিশও আক্রান্ত। তারপরেও তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এলাকায় জমি দখল করতেন মুসা মোল্লা। তিনি শাহজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী।’ 
এদিকে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ধৃত এক মহিলাসহ ন’জন এখন ন্যাজাট থানার পুলিশ হেপাজতে। তাঁদের জেরা করেছে পুলিশ। তাতেই তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মুসার কাছে আগে থেকেই পাকা খবর ছিল যে শুক্রবার রাতে পুলিশ তাঁকে ধরতে যাবে। সেইমতো সাগরেদদের সতর্ক করে রাখা হয়েছিল। রাজবাড়ি ফাঁড়ি থেকে পুলিশ বেরিয়ে তাঁর বাড়ি যাওয়ার সময় বিষয়টি সোর্সরা ফাঁস করে দেয়। ধৃতদের কল রেকর্ড থেকেও বিষয়টিতে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এনিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার এক কর্তা বলেন, মুসা আগে থেকেই লোকজনকে রেখে দিয়েছিল বাড়ির আশেপাশে। পুলিশ সেখানে পৌঁছতেই অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাঁর দলবল মুসাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে পুলিশি তল্লাশি।

সম্পর্কিত সংবাদ