


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশের পরে এবার ১৮০৬ জনের নিয়োগপত্র বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করছে বিকাশ ভবন। এই শিক্ষকদের বেতন আগেই বন্ধ হয়েছে। তবে, এঁদের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ যে নিয়োগপত্র দিয়েছিল, তা দফায় দফায় বাতিল করা শুরু হয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের পরে। তবে, অযোগ্য শিক্ষকরা প্রথমে ডিভিশন বেঞ্চ, পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় অবশ্য এঁদের রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। তবে, শেষপর্যন্ত বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নির্দেশের পরে এই নিয়োগপত্র পাকাপাকি বাতিলের পথেই হাঁটছে রাজ্য। নিয়োগপত্র বাতিলের পরে এই শিক্ষকদের বেতনের টাকাও ফেরত দিতে হবে সরকারকে। তবে, চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে আইনি পরামর্শও নিচ্ছে রাজ্য সরকার। তারপরেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হবে। তার আগে এসএসসি’কেও সুপারিশপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে।
অনেকেই মনে করছেন, এই শিক্ষকদের নিয়োগপত্র প্রদান পর্বে পর্ষদকে যুক্ত করাই ভুল ছিল। কারণ, নিয়োগপত্র দেওয়ার অধিকার বা দায়িত্ব পর্ষদকে দেওয়া হয় ২০১৬-র বিজ্ঞপ্তির দু’বছর পরে। সেই কারণেই আইনি পরামর্শ নেওয়া। যদিও, এই পর্বে যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল হচ্ছে না। সেটা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্তই থাকছে।
অন্যদিকে, এসএসসি এদিন জানিয়েছে, অ্যাডমিট কার্ডে সকাল ১১টার উল্লেখ থাকলেও ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দিন সকাল ১০টায় উপস্থিত হতে হবে পরীক্ষার্থীদের। কারণ দেহ তল্লাশির জন্য বাড়তি সময় হাতে রাখতে চাইছে এসএসসি। দ্রুতই তা পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করছে তারা। এছাড়া যেসব পরীক্ষার্থীর ছবি অ্যাডমিট কার্ডে স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না, তাঁদের সচিত্র পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডও পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে মোট ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। অযোগ্য হওয়ায় এবং আবেদনে ভুল করায়, ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ায় ২০ হাজার প্রার্থীর আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে।