


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ভোট ঘোষণার পর থেকেই উত্তেজনার শিখরে বরানগর! পরপর দু’’দিন যুযুধান দুই পক্ষের বাগযুদ্ধ, হাতাহাতির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্বিগ্ন পুলিশ-প্রশাসনও। এই আবহে বরানগরজুড়ে একটাই প্রশ্ন, ভোট আরও এগিয়ে এলে শান্ত বরানগর কি গত শতাব্দীর সাতের দশকের রক্তক্ষয়ী রাজনীতিতে ফিরে যাবে? তবে রবিবার দলের কাউন্সিলারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কর্মীদের সতর্ক করে পরপর দু’টি পোস্ট করেছেন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপির প্ররোচনায় কোনোভাবে পা দেওয়া যাবে না।
উত্তর শহরতলির মধ্যে একমাত্র বরানগরে ভোটকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতিমধ্যে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। শনিবার বরানগরের জিএলটি রোডে পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি গড়ায় হাতাহাতিতে। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। রবিবার গোপাল লাল ঠাকুর রোডে বিজেপির মিছিল থেকে দেওয়া স্লোগানের পালটা স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মীরা। তাতেও উত্তেজনা চরমে ওঠে। যদিও পুলিশি হস্তক্ষেপে খুব বেশি বাড়াবাড়ি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজর রয়েছে বরানগরের উপর।
ভোট ঘোষণার পরপর যেভাবে তেঁতে উঠেছে বরানগর, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বহু মানুষ। কুঠিঘাট লাগোয়া এক চায়ের দোকানে বসে বৃদ্ধ প্রতুল দত্ত বলছিলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা স্কুলে পড়ি। তখন দেখেছিলাম রাজনৈতিক হিংসা। রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল গঙ্গা লাগোয়া বিভিন্ন গলি ও বিভিন্ন ঘাট। শুনেছি লাশ টেনে এনে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর বহু দশক শান্ত থাকা বরানগরের হাওয়া এবার ভালো ঠেকছে না।’ তাঁর পাশে বসা আরেক প্রবীণ নাগরিকের সংযোজন, ‘যেভাবে দু’তরফে হাওয়া গরমের চেষ্টা হচ্ছে, তাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আশ্চর্য হব না।’ এর মধ্যে রবিবার রাত ৮টা ও ৯টা নাগাদ দলীয় কাউন্সিলারদের গ্রুপে পরপর দু’টি মেসেজ করেন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা। তিনি লেখেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করছি, বিজেপির প্ররোচনায় পা দেবেন না। এটি দলীয় নির্দেশ।’ পরের মেসেজে আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ‘সকল নেতৃত্ব ও কর্মীদের জানানো হচ্ছে, দলকে ও আমাকে না জানিয়ে কেউ কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না।’ সায়ন্তিকা বলেন, ‘মানুষের সমর্থন নেই বুঝেই শান্ত বরানগরে অশান্তি ছড়াচ্ছে বিজেপি। প্ররোচনা দিয়ে অশান্তি তৈরি করতে চাইছে। আমি আমার দলের কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছি। ভোট আসবে যাবে। কিন্তু বরানগরের উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে।’ বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল হারের আতঙ্কে ভুগছে। তাই আমাদের পার্টি অফিসের সামনে দলীয় পতাকা ও হোর্ডিং খুলে ফেলে নিজেদের গেট করছে। কোথাও আমাদের মিছিল লক্ষ্য করে উত্তেজক স্লোগান দিচ্ছে। আমাদের কর্মীরা শুধু পালটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। বরানগরবাসী জানে, তৃণমূলের লুম্পেন বাহিনীর জন্যই আজ এই পরিস্থিতি।’