Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নারী দিবসে কাপ জিতে মা এবং স্ত্রীকে উপহার দিতে চান অক্ষর

দিনটা নারীদিবস বলেই বাড়তি তাৎপর্য! এদিন যে ঘরের মাঠে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে নামবেন অক্ষর প্যাটেল।

নারী দিবসে কাপ জিতে মা এবং স্ত্রীকে উপহার দিতে চান অক্ষর
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: দিনটা নারীদিবস বলেই বাড়তি তাৎপর্য!

Advertisement

এদিন যে ঘরের মাঠে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে নামবেন অক্ষর প্যাটেল। কাপ জিতলে নারীদিবসের কারণেই তা আরও রংচঙে চেহারা নিয়ে হাজির হবে। বিশ্বসেরার খেতাবটা যে মা এবং স্ত্রীকেই উৎসর্গ করতে চান ‘বাপু’। ৩২ বছর বয়সির ক্রিকেটার হয়ে ওঠার নেপথ্যে যেমন মা প্রীতিবেনের ভূমিকা অপরিসীম, তেমনই স্ত্রী মেহার অবদানও অনস্বীকার্য। বিশেষ দিনটার আগে তাই তারকা অলরাউন্ডারের উপলব্ধি, ‘মহিলারা যেভাবে পরিশ্রম করে, সংসার বাঁচিয়ে রেখে তা অবিশ্বাস্য। এই আমিই যেমন খেলে বেড়াচ্ছি আর স্ত্রী রাত জেগে বাচ্চাকে সামলাচ্ছে। ছোটো থেকে মায়ের পরিশ্রমও তো দেখেছি। কাপ জিতে এই দুই মহিলাকে উপহার দেওয়াই লক্ষ্য।’ ফাইনাল ঘিরে তাঁর বাড়িতেও পাগলপারা উন্মাদনা। যদিও মায়ের পক্ষে মাঠে আসার ধকল নেওয়া অসম্ভব। তবে চোখ টিভির পর্দায় থাকবে সন্ধ্যা থেকে। তিরতিরে আশঙ্কা যদিও সঙ্গী ক্রিকেটপ্রেমীদের। শেষ পর্যন্ত সবকিছু চোখের জলে ভাসবে না তো? মোবাইলে ভেসে আসা মা প্রীতিবেনের গলায় অবশ্য স্নেহভরা বিশ্বাস। সাফ বললেন, ‘না, না। এবার অক্ষর খেলবে তো। ইন্ডিয়াই জিতবে।’ এমন সীমাহীন নির্ভরতা মায়েরাই শুধু করতে পারেন!
২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে চোটের জন্য স্কোয়াডে ছিলেন না অক্ষর। ফলে অভিশপ্ত ১৯ নভেম্বর তাঁকে স্পর্শ করেনি। দিন কয়েক আগে কুড়ি ওভারের কাপযুদ্ধে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও খেলেননি। সহ-অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও ঠিকানা হয়েছিল ডাগ আউটে। তার অবশ্য পজিটিভ দিকও রয়েছে। মোতেরায় যে দুটো পরাজয় ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষত-বিক্ষত করেছে সাম্প্রতিককালে, তার কোনওটারই জ্বালা সইতে হয়নি অক্ষরকে। এই মাঠ মানেই অভিশাপ, এমন ধারণা সেজন্যই অর্থহীন। তাঁর সাফ কথা, ‘ওই দুটো ম্যাচে তো আমি খেলিনি। এবার ঘরের মাঠে থাকব।’ ইঙ্গিতে বোঝানো যে ভারতই জিতবে। ঠিক মায়ের সুরেই যেন মেলালেন গলা!
ঘটনা হল, শুরুতে শচীন তেন্ডুলকর, মার্ক ওয়া, কুলদীপ যাদবদের মতো ফাস্ট বোলার হওয়াই লক্ষ্য ছিল অক্ষরের। কিন্তু নাদিয়াদে কোচ অমরীশ প্যাটেলের কাছে সেজন্যই যাওয়া। কিন্তু ক্রিকেটার হয়ে ওঠার সহজ পাঠের দিনগুলো হয়ে ওঠে অন্যরকম। বছরখানেক যেতে না যেতেই কোচের মনে হয়, পেসার হওয়া সম্ভব নয় অক্ষরের। সামনের পায়ের ল্যান্ডিংয়ের কারণে বলের পেস কমছে। ১৫ বছর বয়সি ছাত্রকে তাই স্পিনার হওয়ার পরামর্শ দেওয়া। আর সেটাই বদলায় জীবনের গতিপথ। অমরীশের কথায়, ‘পেসার হতে চেয়েছিল, তাই স্পিনটা জোরের সঙ্গে করে। প্রথাগত স্পিনারদের মতো ফ্লাইট করায় না। নিশানায় থাকে স্টাম্প। রান আটকানোই ওর প্রধান উদ্দেশ্য।’ কে না জানে, কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে সেটাই জেতার গোল্ডেন রুল!

সম্পর্কিত সংবাদ