নয়াদিল্লি: বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মে অবাধে দেখানো হচ্ছে আপত্তিকর দৃশ্য। এই প্রবণতায় রাশ টানতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। এব্যাপারে সোমবার কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব তলব করল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি অগাস্টাইন জর্জ মাসিহর বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য প্রশাসনিক কাজে আদালতের ‘হস্তক্ষেপে’র সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রকে খোঁচা দিতেও ছাড়েনি। বিচারপতি গাভাই বলেন, ‘ওটিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিষয়বস্তুর উপর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের। এক্ষেত্রে কি বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ কি যুক্তিসঙ্গত হবে? বিশেষ করে যখন প্রশাসনের কাজে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।’
ওটিটিতে অশ্লীলতার উপর লাগাম টানতে পাঁচটি পিটিশন দায়ের হয়েছে। ওটিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করতে ন্যাশনাল কনটেন্ট কন্ট্রোল অথরিটি গঠনের বিষয়ে আদালতের কাছে আর্জি জানান আবেদনকারীদের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন। আবেদনে বলা হয়, কোনও বাছবিচার ছাড়াই বেশ কিছু ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তু রাখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রণবীর এলাহাবাদিয়ার মামলাতেও সর্বোচ্চ আদালত জানতে চেয়েছিল, অনলাইনে আপত্তিকর বিষয়বস্তু চিহ্নিতকরণ ও নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না? এদিন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলে, অশ্লীল বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের আর্জির ব্যাপারে সরকারের কিছু করা উচিত। জবাবে কেন্দ্রের আইনজীবী বলেন, এব্যাপারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আর কিছু বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন সলিসিটর জেনারেল।
বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির কাছে আটতে থাকা নিয়ে সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা মামলা হলেও শীর্ষআদালত সাফ জানায়. বিধানসভায় অনুমোদিত বিল অনন্তকাল আটকে রাখতে পারেন না রাজ্যপাল। রাষ্ট্রপতির কাছে বিবেচনার জন্য পাঠানো হলেও তিন মাসের মতামত জানাতে হবে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার সহ একাধিক বিজেপি সাংসদ। এদিন ওটিটি মামলার শুনানিতেও সেই সংঘাতই ছায়া ফেলেছে।