


নয়াদিল্লি: সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত না হলে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। সাজা ঘোষণার সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা না মানলেও এমনটা হতে পারে। সম্প্রতি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রেক্ষিতে নিজেরই দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা আটকে দিল শীর্ষ আদালত। ৪ বছরের বালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা স্থগিত করা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে নতুন শুনানির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান বিচারপতিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। ৪ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বসন্ত সম্পত দুপারেকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৭ সালের ৩ মে রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে যায়। পরে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতি ক্ষমাভিক্ষাও খারিজ করেন। এরপরেই ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে রায়ের বিরোধিতা করেন দুপারে। দ্বারস্থ হন সুপ্রিম কোর্টের। দুপারের অভিযোগ, সাজা ঘোষণার সময় ২০২২ সালে মনোজ মামলার নির্দেশিকা মানা হয়নি। সেই আবেদন খতিয়ে দেখতে গিয়েই সাজা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালে কী হয়েছিল মনোজ বনাম মধ্যপ্রদেশ সরকার মামলার শুনানিতে? সেখানে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজা ঘোষণার আগে প্রত্যেক নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টকে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। যেমন অভিযুক্তের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, মানসিক স্বাস্থ্য ও সংশোধনের সম্ভাবনা। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দুপারের ক্ষেত্রে মনোজ মামলায় দেওয়া নির্দেশিকা মানা হয়নি। এরপরই বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সময় মনোজ মামলার নির্দেশিকা মানা হয় না। সেক্ষেত্রে সাজা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ শীর্ষ আদালতকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে।’ শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, বিরলতম ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। তবে সেটা কখনই যান্ত্রিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। প্রত্যেক মানুষ ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারের সমান দাবিদার রয়েছে।