নয়াদিল্লি: সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়লেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের উপর তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতার সমালোচনা করতেও পিছপা হয়নি বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এ জি মাসিহার বেঞ্চ। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’য় বেরিয়ে রাহুল প্রকাশ্য জনসভায় বলেন, ‘লাল ফৌজ প্রতিদিন ভারতীয় সেনাকে মারধর করছে।’ এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘ভারতের ২০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে চীন।’ এসংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘ভারতীয় ভূখণ্ডের ২০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীন দখল করে রেখেছে, এমন তথ্য আপনি কোথায় পেলেন? আপনি কি সেখানে ছিলেন? আপনার কাছে কি কোনও বিশ্বাসযোগ্য নথি রয়েছে? যদি তা না থাকে, তবে প্রকৃত ভারতীয় হিসেবে আপনি এমন মন্তব্য করবেন না।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের মন্তব্য করার জন্যও রাহুলকে দুষেছে আদালত। বিচারপতিদ্বয় বলেছেন, ‘আপনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সংসদে আপনি কেন কিছু বলেন না? আপনাকে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সব কথা বলতে হয়?’
এদিন রাহুলের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে রাহুল যদি কিছু না বলেন, তবে তিনি বিরোধী দলনেতা হতে পারবেন না। প্রকৃত ভারতীয় অবশ্যই সীমান্তে শহিদ ২০ জন জওয়ানকে নিয়ে কথা বলবেন। এটা উদ্বেগের।’ তখন বিচারপতিরা বলেন, ‘সীমান্তে সংঘর্ষ হলে দু’পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি কি অস্বাভাবিক?’ উল্লেখ্য, ভারত জোড়ো যাত্রায় বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন উদয় শঙ্কর শ্রীবাস্তব নামে এক ব্যক্তি। সেই মামলায় রাহুলকে সমন পাঠায় লখনউয়ের নিম্ন আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাহুলের আবেদন ২৯ মে খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আসেন রাহুল। সোমবার তিন সপ্তাহের জন্য রাহুলের বিরুদ্ধে লখনউ আদালতকে কোনও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলাকারী এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এই নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।



