সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে দুর্গা হিসেবে বিশেষভাবে পূজিতা হচ্ছেন দেবী সুভদ্রা। দেবী সুভদ্রাকে দুর্গা জ্ঞানে মন্দিরে পুজো করা হচ্ছে। মহালয়া থেকে সেই পুজো শুরু হয়েছে। দশমী পর্যন্ত এই বিশেষ দুর্গাপুজো চলবে। তবে চিরাচরিত, প্রথাগত দুর্গাপুজোর থেকে একটু আলাদা ধরনের এই পুজো। মন্দিরে প্রথম দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নানাবিধ আয়োজন করা হয়েছে। ফুল আর নতুন কাপড়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি। দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন আলাদা নতুন কাপড় তিন ভাইবোনকে পরানো হবে। মন্দির আলোয় সেজে রয়েছে। দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে বিশেষ ভোগও নিবেদন করা হবে। জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার পাশাপাশি মন্দিরের দক্ষিণদিকে অবস্থিত দেবী বিমলার মন্দিরেও দশমী পর্যন্ত বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
পুজোর সময় দীঘায় যথেষ্ট ভিড় হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজোর দিনগুলিতে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে দর্শন করতে বহু দর্শনার্থী ভিড় করবেন। পুজোতে আলাদা মাত্রা এবং গুরুত্ব পাবে জগন্নাথ মন্দির, আশা করছেন সকলেই। জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টি কমিটির সদস্য রাধারমন দাস বলেন, দেবী সুভদ্রা দুর্গার একটি রূপ। যে কারণে শারদীয়ায় মন্দিরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সুভদ্রা ছাড়াও দেবী বিমলাও দুর্গার একটি রূপ। উৎসবের ক’দিন দেবী বিমলাকেও দুর্গা হিসেবে পুজো করা হবে। বৈষ্ণব নিয়মনীতি মেনে দুর্গাপুজো হবে মন্দিরে। ভোর থেকে বিশেষ পুজোর পাশাপাশি সারাদিন ধরে নিয়ম মেনে পুজোপাঠ, কীর্তন, নামগান ও ভোগ বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসকনের সন্ন্যাসীরা পুজোর কদিন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে পরানোর জন্যে বিশেষ পোশাক তৈরি করেছেন। এছাড়া রয়েছে অন্যান্য আয়োজন। পুজোর সময় দীঘায় নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। ডিএসপি(ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, পুজোয় দীঘায় অতিরিক্ত ভিড় হবে। সেকথা মাথায় রেখে মন্দির সহ দীঘা শহরের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ার মোতায়েন করা হবে।