পাটনা: বিহারে আসন্ন ভোটের আগে শাসক শিবিরে দ্বন্দ্ব। রাজ্যের ২৪৩ আসনেই লড়াইয়ের ঘোষণা এলজেপি (রামবিলাস) নেতা চিরাগ পাসোয়ানের। রবিবার সারণে দলের সভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ঘোষণা এনডিএতে রাজনৈতিক ঝড় তুলে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জোটের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর তৎপরতা। চিরাগের ঘোষণার পরই জেডিইউ-র কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা’র বাসভবনে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। সেখানে দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক হয়। এই ঘটনাক্রমে বিহারের রাজনীতিতে জোর জল্পনা দানা বেধেছে।
চিরাগ শুধু নিজে প্রার্থী হওয়ার কথাই জানাননি, সেইসঙ্গে ২৪৩ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে এনডিএ শিবিরের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ চওড়া করেছেন। সারণের সভায় চিরাগ বলেছেন, রাজ্যবাসীর স্বার্থে আমি ভোটে লড়াই করব। বিহারে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যা সবদিক থেকেই রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে রাজ্যের সব আসনে লড়াইয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এনডিএ-র শরিক এলজেপি। চিরাগ নিজেও মোদি সরকারের মন্ত্রী। এই হিসেবে তাঁর এদিনের ঘোষণা জোটধর্মের পরিপন্থী। প্রশ্ন উঠছে, জোট নিয়ে কি মোহভঙ্গ হচ্ছে রামবিলাস-পুত্রের? যদিও এই ঘোষণা আরও বেশি আসনের দাবিতে এনডিএ-র উপর চিরাগের চাপ বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশের জেডিইউ-র বিরুদ্ধে ১৩৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এলজেপি। ভোট কাটাকুটিতে ২৮ আসনে ক্ষতির মুখে পড়ে জেডিইউ। সূত্রের খবর, এবার চিরাগের পদক্ষেপকে মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছে জেডিইউ। এজন্য আসন বন্টন নিয়ে রণকৌশল স্থির করতে ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় ঝা’র সঙ্গে নীতীশ আলোচনা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠককে চিরাগের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খায় লাগাম টানার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নীতীশের দলের আশঙ্কা, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই চিরাগ এহেন রণকৌশল গ্রহণ করে থাকতে পারেন। তা সফল হলে নীতীশকে জোটের অন্দরে কোণঠাসা করে দেওয়া যাবে। অন্যদিকে. চিরাগের ঘোষণা এনডিএ-র অন্য শরিক জিতন রাম মাঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চারও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কয়েকদিন আগে চিরাগকে কটাক্ষ করে মাঝি বলেছিলেন, নীতীশ ও মোদির হাত ধরেই বিহারের উন্নতি হচ্ছে। তৃতীয় কাউকে দরকার নেই। সবমিলিয়ে চিরাগের ঘোষণা এনডিএ-র অন্দরের টানাপোড়েন উস্কে দিয়েছে বলে খবর।