Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬

ব্যাপক সংখ্যায় আধিকারিক বদলি নিয়ে বিবৃতি, মুখরক্ষার মরিয়া চেষ্টা কমিশনের

রাজ্যে ব্যাপক সংখ্যায় আধিকারিক বদলি নিয়ে মুখরক্ষার মরিয়া চেষ্টা কমিশনের! তাদের লক্ষ্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই লক্ষ্য পূরণে গত ১৭ দিনে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের মোট ৫০৬ জন আধিকারিককে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন।

ব্যাপক সংখ্যায় আধিকারিক বদলি নিয়ে বিবৃতি, মুখরক্ষার মরিয়া চেষ্টা কমিশনের
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ব্যাপক সংখ্যায় আধিকারিক বদলি নিয়ে মুখরক্ষার মরিয়া চেষ্টা কমিশনের! তাদের লক্ষ্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই লক্ষ্য পূরণে গত ১৭ দিনে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের মোট ৫০৬ জন আধিকারিককে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এঁদের মধ্যে শুধু বাংলা থেকেই রয়েছেন ৪৮৩ জন আধিকারিক। সরকারি স্তরে এই ব্যাপক রদবদলের তীব্র বিরোধিতা করে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার কমিশনের পালটা সাফাই, এসআইআর শুরুর আগে থেকে ভোট ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকার অন্তত ১৩৭০ জন আধিকারিককে বদলি করেছিল। যার মধ্যে রয়েছেন ৯৭ জন আমলা, ১৪৬ জন শীর্ষপদের পুলিশকর্তা এবং রাজ্য প্রশাসনের ১১২৭ জন আধিকারিক। অর্থাৎ কমিশনের দাবি, বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল রাজ্য সরকারই। কমিশন তা শোধরানোর জন্যই ভোট ঘোষণার পর বদলির পথে হেঁটেছে।

Advertisement

যদিও ঢালাও বদলি নিয়ে কমিশনের এই যুক্তি শুধুমাত্র মুখরক্ষার তাগিদে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, ভোটের আগে যেসব আধিকারিক তিন বছর ধরে একই জায়গায় কাজ করছেন, তাঁদের বদলি করার নিয়ম কমিশনই জারি করেছে। সেই মতো বদলির নির্দেশ এসেছে কমিশনের তরফেই। ফলে ভোটের আগে রাজ্য সরকার যে বদলি করেছিল, তা নিয়ম মাফিকই হয়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিনও শাসক দলের হয়ে প্রচার করার অভিযোগে খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিওকে বরখাস্ত করেছে কমিশন। 
বাংলার শাসক শিবিরের দাবি, ২০২১ সালে গোটা বিধানসভা নির্বাচন পর্বে মাত্র ১৫ জন আধিকারিককে বদলি করেছিল কমিশন। সেই জায়গায় এবার ভোট ঘোষণা হতে না হতে পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে বদলির গুচ্ছ গুচ্ছ নির্দেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির কথাতেই চলছে কমিশন! যে কায়দায় রাজ্যের আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে, সেই ধরন দেখলেই বোঝা যায় যে একমাত্র পশ্চিবঙ্গই ‘টার্গেট’। কারণ, গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার পর রাতেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার সহ ৭৯ জন আধিকারিককে বদলি করে কমিশন। ১৭ ও ১৮ মার্চ—পরপর দু’দিন আরও ৩৮ জন আইপিএস ও ১৩ জন আইএএস অফিসারকে বদলি করা হয়। ২৩ ও ২৯ তারিখে সরানো হয় ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে। এছাড়াও বদলি করা হয় ৮৩ জন বিডিও, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং ১৮৪ জন আইসি-ওসিকে। এমনকি, ১৩ জন আইপিএস অফিসারকে ভিন রাজ্যের ভোটে অবজার্ভার করে পাঠিয়েছে কমিশন। কমিশনের এই বদলরি বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘এই পদক্ষেপ স্বেচ্ছাচারী ও নজিরবিহীন।’ যার প্রেক্ষিতে বদলি নিয়ে এদিন পালটা সাফাই এল কমিশনের তরফে।  

সম্পর্কিত সংবাদ