Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্ধ হিন্দুস্তান মোটরসের ৩৫৫ একর জমি পেল রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিগম, পুজোর আগে খুলল নয়া লগ্নির দরজা

হিন্দুস্তান মোটরসের বন্ধ কারখানার ৩৫৫ একর জমিতে নতুন শিল্পস্থাপনের কাজ শুরু করে দিল নবান্ন। নয়া শিল্পস্থাপনের লক্ষ্যেই সম্পূর্ণ এই জমিটি দেওয়া হল রাজ্যের অধীনে থাকা

বন্ধ হিন্দুস্তান মোটরসের ৩৫৫ একর জমি পেল রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিগম, পুজোর আগে খুলল নয়া লগ্নির দরজা
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: হিন্দুস্তান মোটরসের বন্ধ কারখানার ৩৫৫ একর জমিতে নতুন শিল্পস্থাপনের কাজ শুরু করে দিল নবান্ন। নয়া শিল্পস্থাপনের লক্ষ্যেই সম্পূর্ণ এই জমিটি দেওয়া হল রাজ্যের অধীনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগমকে। গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই জমি শিল্প উন্নয়ন নিগমকে দেওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। পুজোর আগের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সূত্রের খবর, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জমিতে শিল্পস্থাপনের বিষয়টি তদারকি করছেন। এই সময় জমি হস্তান্তর হয়ে যাওয়ায় আগামী কয়েক 

Advertisement

মাসের মধ্যেই এখানে বিনিয়োগ টানা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন রাজ্যের আধিকারিকরা। হিন্দুস্তান মোটরসের মোট জমি ছিল ৩৯৫ একর। যার ৪০ একর জমি মেট্রো রেলের কোচ এবং বন্দে ভারত কোচ নির্মাণ ইউনিটের সম্প্রসারণের জন্য টিটাগড় রেল সিস্টেমস লিমিটেডকে (পূর্বতন টিটাগড় ওয়াগন) দিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার বাকি ৩৫৫ একর জমিতেও নতুন করে বিনিয়োগ টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্য। জানা গিয়েছে, নিজেদের হাতে পাওয়ায় এখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানিকে এখানে নিজেদের ইউনিট খোলার জন্য আবেদন করা হবে। আবার, কোনও শিল্প সংস্থা এককভাবে এখানে নিজেদের ইউনিট খুলতে চাইলেও সেই বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।   
২০১৪ সালের ২৪ মে সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় অ্যাম্বাসাডর প্রস্তুতকারক হিন্দুস্তান মোটরসের তরফে। যথারীতি ওয়েস্ট বেঙ্গল এস্টেট অ্যাকুইজিশন আইনের ৬-এর ধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ জমি ফেরত নিয়ে নেয় রাজ্য। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও রাজ্যের পক্ষেই রায় দেয় সর্বচ্চ আদালত। সমস্ত বাধা কেটে যাওয়ার পর থেকেই এই জমিতে নতুন করে শিল্পস্থাপনের জন্য কোমর বেঁধে নামে নবান্ন। প্রথমে টিটাগড় ওয়াগনকে ৪০ একর জমি দেওয়া হয়। আর এবার শিল্প উন্নয়ন নিগমকে দেওয়া হল বাকি ৩৫৫ একর জমি। রাজ্য জমি ফেরত নিয়ে নেওয়ায় প্রথমে ওয়েস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড অ্যান্ড টেন্যান্সি ট্রাইবুনালে এবং তার পরে ট্রাইবুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যায় হিন্দুস্তান মোটরস কর্তৃপক্ষ। দুই ক্ষেত্রেই রাজ্যের পক্ষে রায় যাওয়ায়, ২০২৫ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। 
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই জমিতে নতুনভাবে ব্যাপক বিনিয়োগ হবে। ফলে সৃস্টি হবে প্রচুর কর্মসংস্থানও। এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, যেহেতু এখানে আগেই কারখানা ছিল এবং সেটি ছিল অ্যাম্বাসাডার প্রস্তুতকারক হিন্দুস্তান মোটরসের, সেই কারণেই যাঁরা বিনিয়োগ করতে চাইবেন তাঁদের আর এই এলাকা আলাদা করে চেনানোর প্রয়োজন পড়বে না।

সম্পর্কিত সংবাদ