


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোট ঘোষণা হল রবিবার। নিয়ম অনুযায়ী, এবার লাইসেন্স প্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে হবে। তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন পুলিশ জেলায় দেখা গিয়েছে, অর্ডার জারি তথা ভোট ঘোষণার অনেক আগে জমা পড়ে গিয়েছে ৫১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ যেহেতু হয়ে গিয়েছে, এবারে থানাগুলি তাদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে কতজন লাইসেন্সড আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলেন আর কত বাকি থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেসব জমা না পড়লে পদক্ষেপ করবে পুলিশ। গত সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে যে রিপোর্ট নিয়ে বিশ্লেষণ হয়েছে, তাতে বিভিন্ন জেলার অস্ত্র জমার হিসাব দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্রে খবর, বারুইপুর পুলিশ জেলায় জমা পড়েছে ১৪৫টি বন্দুক, ডায়মন্ডহারবারের বিভিন্ন থানায় জমা পড়েছে ২৯৬টি, কলকাতা পুলিশের এলাকায় ১৬টি বন্দুক জমা দেওয়া হয়েছে এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ৬০টি জমা পড়েছে। পুলিশ মহলের দাবি, ভোট ঘোষণা পর্যন্ত অনেকে অপেক্ষা করতে রাজি হননি। তাই কেউ জানুয়ারি মাসে, কেউ ফেব্রুয়ারি মাসে এসে নিয়ম মাফিক নিজেদের আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিয়ে গিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থে রাখা অস্ত্র যেমন আছে, তেমনই পুরানো দিনের কিছু বন্দুকও রয়েছে। পুজোর নিয়ম রীতি পালনেও অনেক বনেদি বাড়িতে বন্দুক থাকে। এরকম একাধিক বাড়ির লোকজন এসে জমা করে গিয়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে যাঁদের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করার সময় এসেছে, তাঁরা সেটা না করেও জমা দিয়েছেন থানায়। ভোট মিটে গেলে সেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া আছে। যেমন ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী, খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখিয়ে এই ছাড় নিতে হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দেহরক্ষীদের ক্ষেত্রেও অস্ত্র জমা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে পুলিশ প্রশাসনের মতে, আরো কিছু আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর এই নিয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।