


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ফিলাটেলি বা ডাকটিকিট সংগ্রহ সংক্রান্ত যে ক্লাবগুলি রয়েছে, সেগুলিকে সোসাইটি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ডাকবিভাগ। তার জন্য প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশনের পথে এগচ্ছে তারা। কলকাতায় ২৮টি এমন ক্লাব রয়েছে। এগুলি মূলত স্কুলভিত্তিক। অর্থাৎ স্কুলের পড়ুয়ারাই ডাকটিকিট বা স্ট্যাম্প সংগ্রহের ব্যাপারে নিজেরা ক্লাব তৈরি করেছে। কলকাতার বাইরে অন্যান্য জায়গাতেও ‘হবি ক্লাব’ হিসেবে ছড়িয়ে রয়েছে ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের ক্লাবগুলি। এগুলিকেও সোসাইটি হিসেবে তুলে ধরতে উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাকবিভাগের কর্তারা।
তাঁদের কথায়, দুর্গাপুর এবং হাওড়ায় ইতিমধ্যেই দু’টি ক্লাব এই ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে। চিঠিপত্রের চাহিদা কমলেও, ডাকটিকিট সংগ্রহের চাহিদা যে বাড়ছে, তা জানিয়েছেন দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের হিসেব, কলকাতা জিপিও’র আওতায় যেখানে ২০২২ সালে প্রায় সাত হাজার ফিলাটেলি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, তা বর্তমানে বেড়ে প্রায় এগারো হাজারের দিকে এগচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডাকটিকিট সংগ্রহের আগ্রহ যথেষ্ট, দাবি করেছেন কর্তারা। প্রসঙ্গত, ন্যূনতম ২০০ টাকা দিয়ে ডাকঘরগুলিতে ফিলাটেলি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন যে কেউ। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই তাঁরা পছন্দসই ডাকটিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। স্ট্যাম্প সংগ্রহে উৎসাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত হতে চলেছে চারদিনের রাজ্যস্তরের ডাকটিকিট প্রদর্শনী ‘বঙ্গপেক্স’। নামজাদা ডাকটিকিট সংগ্রাহকরা যেমন সেখানে অংশগ্রহণ করবেন, তেমনই বেশ কিছু অভিনব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
ডাকবিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার জানিয়েছেন, বাংলা সিনেমা, বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস, সংগীত, খেলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে স্পেশাল কভার, পিকচার পোস্ট কার্ড প্রভৃতি প্রকাশিত হবে। সেই তালিকায় আছেন রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর রায়, তুলসী চক্রবর্তী, সন্তোষ দত্ত, গোষ্ঠ পাল, শৈলেন মান্না, পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দিকপাল ব্যক্তিত্বরা। থাকবে ক্যুইজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার মতো আকর্ষণীয় বেশ কিছু অনুষ্ঠান, জানিয়েছেন অশোক কুমার।