Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্লো ভোটিং! ‘টর্চার করছে কমিশন’

সকাল থেকে বুথে বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন। প্রথম দফার ছবি দেখা গেল দ্বিতীয় দফাতেও। কিন্তু ভোট শুরু হতে না হতে কাটল তাল! ভোটাররা জমা হতে থাকলেও লাইন একচুল এগচ্ছিল না।

স্লো ভোটিং! ‘টর্চার করছে কমিশন’
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: সকাল থেকে বুথে বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন। প্রথম দফার ছবি দেখা গেল দ্বিতীয় দফাতেও। কিন্তু ভোট শুরু হতে না হতে কাটল তাল! ভোটাররা জমা হতে থাকলেও লাইন একচুল এগচ্ছিল না। কোথাও এক-দেড় ঘণ্টা, কোথাও দু-আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের জন্য। আর তাতেই বিরক্তি ধরে পড়ল ভোটারদের গলায়—‘সাতসকালে ভোট দিতে এসেও এতক্ষণ লাইন দিতে হচ্ছে। এ তো রীতিমতো টর্চার করছে কমিশন!’ বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত গোটা ভোটপ্রক্রিয়াই ধীরগতিতে চলেছে বলে একাধিক বুথ থেকে অভিযোগ এসেছে। প্রথম দফাতেও বেলা ১১টা পর্যন্ত সর্বত্র স্লো ভোটিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি, কমিশনের দেওয়া সকাল ন’টার ভোট শতাংশের হিসাবেও সেই ইঙ্গিত মেলে। এদিন দ্বিতীয় দফায় সকাল ন’টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ১৮.৩৯ শতাংশ। তারপরেও ঢিমেতালে ভোট প্রক্রিয়া চলেছে— অভিযোগ ভোটারদের। 
কিন্তু এমন স্লো ভোটিংয়ের কারণ কী? আসলে দ্বিতীয় দফাই ছিল কমিশনের পাখির চোখ। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনাপ্রবণ জেলাগুলিতে ভোট ছিল এদিন। এই ১৪২টি আসনই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। সেই কারণে এদিন বেলা পর্যন্ত ধীরগতিতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসলে জল মাপতে চেয়েছিল কমিশন, অন্তত এমনই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেলা ১টার মধ্যেই ভোটের হার আমূল বদলে যায়। পৌঁছে যায় ৬১.১১ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র চার ঘণ্টায় ৪৩ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি! এরপর বেলা তিনটের মধ্যে ভোট পড়েছিল ৭৮.৬৮ শতাংশ। আর বিকেল ৫টায় তা ৮৯.৯৯ শতাংশে পৌঁছে যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, যেসব জায়গায় তাদের বিপুল সমর্থন রয়েছে, সেসব জায়গায় বেলা পর্যন্ত ইচ্ছাকৃত ভোট প্রক্রিয়া স্লথ করে রাখা হয়েছিল। বুথের বাইরে লাইনে ভিড় হলেও ভোট প্রক্রিয়া আশানুরূপভাবে এগয়নি। কিন্তু বেলা ১ টার পর থেকে হু হু করে বেড়েছে ভোটদানের হার। এর পিছনে কমিশনের কোনো কারসাজি নেই তো? কই, প্রথম দফার ভোটে এমন তো হয়নি? প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী ও নেতারা। 
এদিন সকাল থেকে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদীয়ার বহু জায়গায় ইভিএম খারাপ হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। সেখানে ভোটদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে। ‌হাওড়ার বালি বিধানসভার বঙ্গশিশু বিদ্যালয় ১৮ নম্বর বুথে ইভিএম মেশিন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে খারাপ ছিল। গোঘাট ও সপ্তগ্রামে ইভিএম-ভিভিপ্যাট খারাপ থাকায় নির্ধারিত সময়ের অন্তত দেড় ঘণ্টা পরে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। হাবড়া বিধানসভায় নির্বাচন কমিশনের তৈরি একমাত্র মডেল বুথে মকপোলের শুরুতেই দেখা যায়, ইভিএম খারাপ। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের ১৪৯ নম্বর বুথে মেশিন খারাপ হওয়ায় ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। কাটোয়া বিধানসভার ৯৫ নম্বর বুথেও ভোট দেরিতে শুরু হয়। এছাড়াও বারাসাত, উত্তর হাওড়া বিধানসভার সালকিয়া, আরামবাগের পারুল এবং তারকেশ্বরেও ইভিএম খারাপ থাকায় ভোট প্রক্রিয়া অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে। সকাল সকাল চারুচন্দ্র কলেজে ভোট জিতে গিয়েছিলেন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ইভিএম বিভ্রাটের জেরে তাঁকে ফিরে আসতে হয়।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ