Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরের জের, তিন মাসেই আড়াই লক্ষ! জমি-বাড়ির দলিলের সার্টিফায়েড কপি তোলার হিড়িক রাজ্যে

এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছে ছেলে। কারণ, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন আগে মারা গিয়েছেন। আর তাঁর মা বিয়ের পরে পদবি পরিবর্তন করেননি।

এসআইআরের জের, তিন মাসেই আড়াই লক্ষ! জমি-বাড়ির দলিলের সার্টিফায়েড কপি তোলার হিড়িক রাজ্যে
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছে ছেলে। কারণ, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন আগে মারা গিয়েছেন। আর তাঁর মা বিয়ের পরে পদবি পরিবর্তন করেননি। ফলে তিনি ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এখন এমন একটি নথি চাই, যা প্রমাণ করবে ‘তিনিই তাঁর মায়ের ছেলে’! এক্ষেত্রে খুব সহজ হল বার্থ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া। কিন্তু প্রায় ৪০ বছর আগে জন্মের শংসাপত্র তাঁর নেই। এখন উপায়? আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে কথা বলে ছেলে জানতে পারেন, ‘বাড়ির জমির কাগজ’-এ মায়ের সঙ্গে তাঁর নাম আছে। ‘বাড়ির জমির কাগজ’ বলতে দলিল। কিন্তু সেটাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অগত্যা একমাত্র উপায় দলিলের সার্টিফায়েড কপি। 

Advertisement

এমন ঘটনা একটি নয়। হাজার হাজার এমন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য দলিলের সার্টিফায়েড কপিই হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রধান অস্ত্র। তাই গত তিন মাসে এই সার্টিফায়েড কপি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে প্রায় আড়াই লক্ষ সার্টিফায়েড কপি তোলার আবেদন জমা পড়েছে রাজ্যের কাছে। এর মধ্যে অধিকাংশই তা হাতে পেয়েও গিয়েছেন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে হওয়ায় দ্রুত মিলছে দলিলের সার্টিফায়েড কপি। অক্টোবর মাসের শেষে চালু হয়েছে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি। সেই সময় প্রয়োজন না পড়লেও পরবর্তীতে প্রয়োজন পড়তে পারে ভেবে অনেকেই নেমে পড়েছিলেন নথি জোগাড়ে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর মাসে মাত্র ৫৩ হাজার ৬২৯টি আবেদন এসেছিল। সেই জায়গায় নভেম্বরে এক লাফে তা বেড়ে হয় ৭৯ হাজার ৬৮১। ডিসেম্বরে দলিলের সার্টিফায়েড কপির জন্য ৮৬ হাজার ৯৭২ এবং জানুয়ারিতে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়ে। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার সার্টিফায়েড কপির আবেদন আসে। কিন্তু গত তিন মাসের গড়ে প্রায় ৮০ হাজার আবেদন এসেছে। ফলে বিষয়টা খুব পরিষ্কার—জমি ক্রয়-বিক্রয় ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনেও তোলা হয়েছে সার্টিফায়েড কপি। যার মধ্যে অন্যতম হল এসআইআর। 
নামের বানানে সামান্য গরমিলের জন্য ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় নাম চলে আসছে। এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি উল্লেখ করে রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষ কার্যত দিশেহারা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মতো গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় থাকুক বা না থাকুক, শুনানিতে ডাক পেলে যে কোনো নথি জোগাড়ে মরিয়া হয়ে উঠছেন ভোটাররা। তার উপর রয়েছে কমিশনের ‘খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত’। তাই প্রথমে মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, তারপর রেসিডেন্সিয়াল ও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে দলিলের সার্টিফায়েড কপি হাতে পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকে। এই নথি ব্যবহার করে তাঁরা বাবা বা মায়ের সঙ্গে ‘রিলেশনশিপ’ প্রমাণ করতে চাইছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ