


মুল্লানপুর: অপ্রতিরোধ্য মেজাজে আইপিএলের ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বৃহস্পতিবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে রজত পাতিদারের দল আট উইকেটে হেলায় হারাল পাঞ্জাব কিংসকে। জয় আসে ৬০ বল বাকি থাকতে। এদিনের জয় বেঙ্গালুরু সমর্থকদের ট্রফি জেতার স্বপ্ন আরও বাড়িয়ে তুলছে। ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান থেকে আর এক ধাপ দূরে বিরাট কোহলিরা। প্রথমবার ট্রফি আর আরসিবি’র মধ্যে এখন মাত্র একটা হার্ডল। পাঞ্জাব অবশ্য মঙ্গলবারের ফাইনালে ওঠার জন্য আরও একটা সুযোগ পাচ্ছে। রবিবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে নামবেন শ্রেয়স আয়াররা।
১০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ঝড়ের গতিতে শুরু করেছিল বেঙ্গালুরু। দ্বিতীয় ওভারের শেষে স্কোর ছিল ১৭-০। কিন্তু জেমিসনের বাড়তি বাউন্স ঘাতক হয়ে ওঠে। বিরাট কোহলি ফেরেন ১২ রানে। মনে হচ্ছিল পাঞ্জাব ম্যাচে ফিরেছে। কিন্তু তারপর ফিল সল্টের ধুমধাড়াক্কা সেই সম্ভাবনায় জল ঢালে। জেমিসনকে তৃতীয় ওভারে আসে ২১ রান। তার মধ্যে সল্টই নেন ১৬। ছয় ওভারের শেষে আরসিবি’র স্কোর ছিল ৬১-১। ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ মায়াঙ্ক আগরওয়াল (১৯) ফিরলেও সল্টকে থামানো যায়নি। মাত্র ২৩ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। ১০ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছয় বেঙ্গালুরু (১০৬-২)। ছক্কা মেরে জেতান ক্যাপ্টেন পাতিদার (অপরাজিত ১৫)। অপরাজিত থাকেন সল্টও (৫৬)।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাঞ্জাবের ইনিংস অবশ্য টিকেছিল মাত্র ৮৫ বল। ১৪.১ ওভারে ১০১ রানে দাঁড়ি পড়ে হোমটিমের ইনিংসে। চলতি মরশুমে যা তাদের সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ১১১ তুলেও জিতেছিল তারা। এদিন অবশ্য ৬.৩ ওভারের মধ্যে অর্ধেক দলকে খুইয়ে বসে তারা। বাঁ-হাতি ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য্যর (৭) আউট দিয়ে পতনের শুরু। দ্বিতীয় ওভারে যশ দয়ালের শিকার হন তিনি। এরপর ভুবনেশ্বর কুমারের ডেলিভারিতে প্রভসিমরন সিংয়ের (১৮) খোঁচা ধরেন কিপার জিতেশ শর্মা। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আয়ারের দিকে তাকিয়েছিল দল। কিন্তু তিনি ব্যর্থ। জস হ্যাজলউডের বলে খোঁচা দেন শ্রেয়স (২)। জস ইংলিশও (৪) ফেরেন হ্যাজলউডেল বলে। এরপর দয়ালের দ্বিতীয় শিকার হন নেহাল ওয়াধেরা (৮)।
৫০-৫ হওয়ার পর শুরু সুয়াশ শর্মার জাদু। নবম ওভারে আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই শশাঙ্ক সিংকে (৩) বোল্ড করেন তিনি। ৬০-৬ হওয়া পাঞ্জাব উপায়ন্তর না দেখে ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবে নামায় মুশির খানকে। সরফরাজের ভাইয়ের এটাই আইপিএলে অভিষেক। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ। মুশির (০) এলবিডব্লু হন সুয়াশের ওই ওভারেই। মার্কাস স্টোইনিসকেও (২৮) পরের ওভারে বোল্ড করেন সুয়াশ। আসলে তাঁর গুগলির সামনে অসহায় দেখায় পাঞ্জাব ব্যাটসম্যানদের। তখন মনে হচ্ছিল না একশোর গণ্ডি টপকাতে পারবেন শ্রেয়সরা। ওমারজাই (১৮) তিন অঙ্কের রানে দলকে পৌঁছে দিয়েই আউট হন। হ্যাজলউডের বলে তাঁর ক্যাচ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় তালুবন্দি করেন জিতেশ। বেঙ্গালুরুর হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন সুয়াশ (৩-১৭) ও হ্যাজলউড (৩-২১)। বাকি উইকেট দয়াল (২), শেফার্ড (১) ও ভুবনেশ্বরের (১)।