মুম্বই: লক্ষ্য ছিল ভোট বৈতরণী পার। এজন্য বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে মহারাষ্ট্রে লাড়কি বহিন প্রকল্প চালু করেছিল বিজেপি জোট সরকার। কিন্তু ভোট মেটার পর সামনে এসেছে একের পর এক বেনিয়ম। কখনও ‘অযোগ্য’ চিহ্নিত করে লক্ষ লক্ষ মহিলা প্রাপকের নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার। কখনও আবার এই প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের তালিকায় উঠে এসেছে সরকারি কর্মী ও পুরুষদের নামও। আর তা নিয়েই প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন এনসিপি (শারদ)সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘লাড়কি বহিন প্রকল্পে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে বিজেপির জোট সরকার। অবিলম্বে সিট গঠন করে পুরো বিষয়টির তদন্ত করা হোক।’
সম্প্রতি জানা গিয়েছে, এতদিন ধরে লাড়কি বহিনের সুবিধা পেয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি পুরুষ। এর জেরে কোষাগার থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ২১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বেশি। এদিন দিল্লিতে শারদ পাওয়ার কন্যা প্রকল্পে একের পর এক অনিয়ম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে আধার ও ব্যাঙ্কের নথি বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যারা যোগ্য নয়, তারাও মাসের পর মাস টাকা পাচ্ছে। এখন দেখা গিয়েছে, বহু পুরুষও প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এত বড় গাফিলতি কীভাবে হতে পারে? বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পে ২.৩৮ কোটি মহিলার নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ভোট মিটতেই ২৬ লক্ষ মহিলাকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিয়ার প্রশ্ন, সেই বাছাইয়ের পর্বেও সুবিধা প্রাপক পুরুষদের খুঁজে পাওয়া গেল না কেন? পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তাই একটি সিট গঠন করে অবিলম্বে স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা উচিত। অন্যান্য প্রকল্পে সামান্য নম্বর কমে গেলেও পড়ুয়াদের আবেদনপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ে সরকার ও তাঁর লোকজন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই দুর্নীতির দায় নিতে হবে বর্তমান সরকারকে। রাজ্য সরকার যদি এই সমস্যার সমাধান করতে না পারে, তাহলে বিষয়টি সংসদে তুলব।