নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ থেকে তিনদিনের বিহার সফর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিহার সফরের প্রধান এজেন্ডা বাংলা সীমানাবর্তী যে জেলাগুলি রয়েছে, সেগুলির প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক। যা কার্যত নজিরবিহীন। কারণ, বছরে নিয়ম করে ডিজি সম্মেলন অথবা মুখ্য সচিবদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীদের সামনে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা রাজ্য সংক্রান্ত প্রেজেন্টেশন দিয়ে থাকেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত যে বিষয় সেই আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের সঙ্গেও কথা বলবেন অমিত শাহ। বিহারের যে এলাকাকে সীমাঞ্চল আখ্যা দেওয়া হয়, সেই পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন কিষানগঞ্জ, আরারিয়া, পূর্নিয়া, কাটিহার, মাধেপুরা, সহর্ষ, সপোল জেলাগুলিকে কেন্দ্র করেই হবে বৈঠক। এই জেলাগুলির সঙ্গে বাংলা, নেপাল এবং বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এই জেলাগুলিতে জনসংখ্যার ধর্মীয় চরিত্র বদল হচ্ছে দ্রুত। এই অভিযোগ ও তথ্য পেয়েই উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অনুপ্রবেশকারী এবং বেআইনি নাগরিকের সংখ্যাও বহু। কোথা থেকে অনুপ্রবেশ সবথেকে বেশি হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারীরা কোনদিকে যাচ্ছে এবং কোন কোন জনপদে তারা থাকতে শুরু করছে, তারই বিস্তারিত রিপোর্ট জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের থেকে চাওয়া হচ্ছে। অমিত শাহের এই সফরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ একটি রাজ্যে তিনদিন ধরে বসে সেই রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বতালাশ করা এবং নির্দেশিকা দেওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, ইনটেলিজেন্স ব্যুরো প্রধান তপন ডেকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ ছাড়া আরও যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে, সেই সশস্ত্র সীমা বলের সঙ্গে বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রসঙ্গত বাংলার জন্য এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিভাজিত করে একটি পৃথক রাজ্য গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিজেপির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে। তার মধ্যেই বিজেপির এক ঝাড়খণ্ডের এমপি প্রস্তাব এনেছেন, বাংলার মালদহ, মুর্শিদাবাদকে বিহারের কয়েকটি জেলার সঙ্গে যুক্ত করে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হোক। যে জেলাগুলিকে এই তালিকায় রাখার কথা বলা হয়েছিল সেগুলি নিয়েই বৈঠক করবেন অমিত শাহ। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাংলার ভোটের আগে হঠাৎ বিহারের সীমানাবর্তী জেলাগুলি নিয়ে স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পিছনে উদ্দেশ্য কী?



