


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টাকার বিনিময়ে চালাচ্ছে সিমের ওটিপি বিক্রির কারবার। ক্রেতা পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই! এই অভিযোগে শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদ থেকে সুমন শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। অভিযোগ, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এজেন্টদের কাছে ঘুরপথে এই ওটিপি পৌঁছাত। সুমনের সঙ্গে কার কার যোগাযোগ রয়েছে ধৃতকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
১০ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদ থেকে জুহেব শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার হয়। তাকে জেরা করে জানা যায়, সে এবং সুমন শেখ নামে এক যুবক টাকার বিনিময়ে ওটিপি বিক্রি করছে। তদন্তে উঠে আসে, জুহেবের মোবাইলের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে ভুয়ো নথি জমা করে গুচ্ছ গুচ্ছ সিম তোলা হচ্ছে। এর বাইরে মুর্শিদাবাদের অন্য জায়গা থেকে তারা মোটা টাকায় সিম কিনছে। সেই সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা হচ্ছে দেশে ও দেশের বাইরে। এই হোয়াটসঅ্যাপ খোলার জন্য এখান থেকে পাসওয়ার্ড সাপ্লাই করছে দুজন। সেগুলির তদন্তে উঠে আসে, এই সিমের একটা অংশ যাচ্ছে সাইবার জালিয়াতদের কাছে। আরেকটা বড়ো অংশ পৌঁছে যাচ্ছে পাকিস্তানে বসে থাকা আইএসআই এজেন্টদের কাছে। পাক গুপ্তচর সংস্থার অফিসাররা এই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভারতে থাকা আইএসআই এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। একেকটি সিম বিক্রি হচ্ছে আটশো থেকে হাজার টাকায়।
তদন্তে জানা যায়, দুই অভিযুক্তের সঙ্গে আইএসআই এজেন্ট ও সাইবার জালিয়াতদের পরিচয় হয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। পাশাপাশি ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমেও তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের কাছে প্রস্তাব আছে সিমের পাসওয়ার্ড বিক্রির। টাকার লোভে তারা এই কাজটি করছিল। এরপরই শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সুমন শেখকে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত সুমন জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, সে আগে পুনায় থাকত। সেখানে থাকাকালীনই তার সঙ্গে কয়েকজনের পরিচয় হয়। তারা তাকে জানায়, সিমের পাসওয়ার্ড বিক্রি করলে মোটা টাকা পাওয়া যাবে। সেইমতো মুর্শিদাবাদে এসে সে এবং জুহেব এই কাজ শুরু করেছিল। সুমনের দাবি, তবে পাকিস্তানে আইএসআই এজেন্টের কাছে পাসওয়ার্ড গিয়েছে বলে সে জানত না। তাদের মোবাইলে সন্দেহজনক নাম ও ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি সম্পর্কে খোঁজখবর করছে এসটিএফ।