Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালীপুজো দেখতে আসার পথে দুর্ঘটনা, মৃত মাধ্যমিকের ছাত্রী, দু’টি বাসে ভাঙচুর, মধ্যমগ্রামে উত্তেজনা

কালীপুজো দেখতে এসে বাসের রেষারেষিতে  দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ছাত্রীর। মৃতার নাম অন্তরা বসু (১৫)। আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার।

কালীপুজো দেখতে আসার পথে দুর্ঘটনা, মৃত মাধ্যমিকের ছাত্রী, দু’টি বাসে ভাঙচুর, মধ্যমগ্রামে উত্তেজনা
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কালীপুজো দেখতে এসে বাসের রেষারেষিতে  দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ছাত্রীর। মৃতার নাম অন্তরা বসু (১৫)। আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার। বন্ধুর স্কুটারে চেপে বারাসতে আসছিল কিশোরী। তখনই পিছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিশোরীর। স্কুটার চালক আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভরতি বারাসত মেডিকেল কলেজে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যমগ্রামের রবার ফ্যাক্টরি বাস স্টপ লাগোয়া এলাকায়। মৃতের বাড়ি মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্কিম পল্লিতে। স্থানীয়দের দাবি, দু’টি এল-২৩৮ বাসের রেষারেষির জেরেই দুর্ঘটনা। উত্তেজিত জনতা দু’টি বাসে ভাঙচুর চালায়। একটি বাস আটক করেছে পুলিশ। চালক ও খালাসি পলাতক। পাশাপাশি, বাস ভাঙচুরের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

Advertisement

এদিন দুপুরে মধ্যমগ্রামের বাড়ি থেকে স্কুটারে বারাসতে কালীপুজোর প্যান্ডেল দেখতে আসছিল অন্তরা। স্কুটার চালাচ্ছিল বন্ধু জানদীপ দে। মধ্যগ্রামের রবার ফ্যাক্টরি বাস স্টপের কাছে হঠাৎই পিছন থেকে একটি বেসরকারি বাস ধাক্কা মারে স্কুটারে। রাস্তার পড়ে যায় অন্তরা ও তার বন্ধু। তখনই এল-২৩৮ বাসের চাকায় পিষ্ট হয় অন্তরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। স্কুটার থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন মৃত কিশোরীর বন্ধু জানদীপও। তার চিকিৎসা চলছে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, এল-২৩৮ বেসরকারি বাসের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরেই রেষারেষি চলছিল। তার জেরেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। যশোর রোডে রেষারেষির ঘটনা নতুন কিছু নয়। রেষারেষির জেরে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। অভিযোগ, এল-২৩৮ বাসের গতিতে লাগাম টানা কোনওভাবেই সম্ভব হচ্ছে না পুলিশের পক্ষে। ক্ষোভে মৃতের পরিবার ও উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালাতে থাকে দু’টি এল-২৩৮ বাসে। খবর পেয়ে বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কা আনন্তের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। পুলিশকে ঘিরে চলে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় পুলিশকে। অভিযুক্ত বাসের চালক ও খালাসিকে গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মৃতার বাবা অলোক বসু বলেন, বাসের বেপরোয়া গতির জন্যই কালীপুজোর মধ্যে মেয়েকে হারাতে হল। আমাদের একটাই কথা, বাসের চালক ও খালাসিকে সামনে আনতে হবে। এদিকে বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কা আনন্ত বলেন, বাসটিকে আটক করা হয়েছে। চালক ও খালাসিকেও চিহ্নিত করা গিয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ