


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরপর কয়েকটি রবিবার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে বিদ্যাসাগর সেতুর মেরামতির কাজ চলছে। কোনও কোনও রবিবার ভোর ৫টা থেকে টানা আট ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্ছে যান চলাচল। আবার এমনও রবিবার গিয়েছে, যেদিন টানা ১৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রেখে রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছে মেরামতির কাজ। এই দিনগুলিতে ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বেড়েছে দুর্ভোগ। ভুক্তভোগী সবারই প্রশ্ন, আর কতগুলি রবিবার এভাবে বন্ধ রাখা হবে দ্বিতীয় হুগলি সেতু? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এখনও যা কাজ বাকি আছে, তাতে কমপক্ষে আরও ২৭২ ঘণ্টার জন্য দিনের বেলা যান চলাচল বন্ধ রাখার প্রয়োজন পড়বে। অর্থাৎ, পুলিশের তরফে টানা ১৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখার অনুমতি দেওয়া হলে আরও অন্তত ১৭টি রবিবার লাগবে কাজ শেষ করতে।
শুরুর দিকে ভোররাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু, এখন দিনের আলোয় কাজ করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, বর্তমানে ‘স্টে কেবল’ এবং ‘বেয়ারিং’ বদল করার কাজ চলছে। যা অতি সূক্ষ্ম কাজ। মাপজোক সামান্য এদিক-ওদিক হলেই সমস্যা হবে। তাছাড়া, সেতুর উপর ভার থাকলেও কেবল এবং বেয়ারিং, কোনওটাই বদল করা সম্ভব নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
বিদ্যাসাগর সেতু দেশের প্রথম কেবল স্টেড (কেবল দিয়ে টান দেওয়া) ব্রিজ। ফলে এই ধরনের সেতুর ব্যাপক মেরামতির কাজও দেশে এই প্রথম হচ্ছে। ফ্রান্সের একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে ভারতের একটি কোম্পানি একযোগে মেরামতির কাজ করছে। খরচ হচ্ছে ২৫৬ কোটি টাকা। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগচ্ছে। ২০২৬ সালের ৩১ মের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুর নীচের ১৬টি হোল্ডিং ডাউন কেবল বদলানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে উপরের অংশের ১৯টির মধ্যে ১৭টি কেবল বদলানো। ইঞ্জিনিয়ারদের হিসেব অনুযায়ী, এক-একটি কেবল বদলাতে অন্তত ন’ঘণ্টা করে সময় লাগছে। ফলে ১৭টির জন্য লাগবে অন্তত ১৫৩ ঘণ্টা। আর সেতুর নীচের মোট ২৬টি বেয়ারিংয়ের মধ্যে ১০টি ভার্টিকাল বেয়ারিং। কলকাতার দিকের দুটি ভার্টিকাল বেয়ারিং এবং একেবারে মাঝ বরাবর একটি বেয়ারিং বদলানো হয়ে গিয়েছে। এক-একটির জন্য প্রায় ১৬ ঘণ্টা করে সময় লেগেছে। আরও সাতটি ভার্টিকাল বেয়ারিং বদলানো বাকি। এর জন্য সময় লাগবে নূন্যতম ১১২ ঘণ্টা। আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজের জন্য আরও কিছুটা সময় হাতে রাখলে দেখা যাচ্ছে, নূন্যতম ২৭২ ঘণ্টা সময় লাগবেই। তবে একবার মেরামত হয়ে গেলে আগামী কয়েক দশকের জন্য নিশ্চিন্তে যান চলাচল করবে বিদ্যাসাগর সেতু দিয়ে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্সের (এইচআরবিসি) মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে এই কাজ করাচ্ছে রাজ্য। কাজ শুরুর আগে একটি বৈঠকে মুখ্যসচিবের তরফে রবিবার বা কোনও ছুটির দিন দেখে সেতুতে যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতেই এই নির্দেশ। সেক্ষেত্রেও অবশ্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।