Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জীবিত নয়, আবার জড়ও নয়, বিজ্ঞানীদের নয়া আবিষ্কারে তোলপাড়

জীবন থাকলেই জীব। আর জীবের অর্থ নতুন জীবনের জন্ম দিতে পারা। বেড়ে উঠতে পারা, বাইরের সাহায্য ছাড়াই নতুন উৎপাদন করতে পারা। সে কারণেই কোষ প্রাণের লক্ষণ।

জীবিত নয়, আবার জড়ও নয়, বিজ্ঞানীদের নয়া আবিষ্কারে তোলপাড়
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জীবন থাকলেই জীব। আর জীবের অর্থ নতুন জীবনের জন্ম দিতে পারা। বেড়ে উঠতে পারা, বাইরের সাহায্য ছাড়াই নতুন উৎপাদন করতে পারা। সে কারণেই কোষ প্রাণের লক্ষণ। ভাইরাস নয়। কিন্তু সেই ভাইরাস‌ই প্রাণী বা মানুষের দেহে অবস্থান করলে সে জীবের মতো আচরণ করে। এত পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু ওই যে, ‘আসলে সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’। বিজ্ঞানও সদাপরিবর্তনশীল। এমন‌ই প্রচলিত ধ্যান ধারণা ওলটপালট করে দেওয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ‘প্রাণ’-এর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। তার নাম সুকুমারচিয়াম মিরাবিল! জাপানের এক পৌরাণিক দেবতার নামে নামকরণ করা হয়েছে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের। জাপান এবং কানাডার বিজ্ঞানীদের এই আশ্চর্য আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞান পত্রিকা ‘সায়েন্স’-এ। 

Advertisement

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন সত্তাটির বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভাইরাসের মতো। বেশ কিছু জৈবিক কার্যকলাপ সে হোস্ট বা পোষকের উপর ছেড়ে দেয়। আবার নিজের রাইবোজোম ও মেসেঞ্জার আরএনএ তৈরির ক্ষমতা রাখে। সেই ক্ষমতা আবার ভাইরাসের নেই! 
পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে ছোট আর্কিয়া গোষ্ঠীর জীবের থেকেও কম সংখ্যক জিনোম রয়েছে এদের। মাত্র ২,৩৮,০০০ বেস পেয়ার। আর্কিয়া গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের জিনোম প্রায় দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। এত কম জিনগত উপাদান থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যান্য প্রাণীদের মতই ডিএনএ’র বিভিন্ন কাজকর্ম নিজেরা করতে পারে। কিন্তু যখনই প্রশ্ন ওঠে বিপাকক্রিয়ার, তারা পুরোপুরি নির্ভরশীল পোষক বা হোস্টের উপর। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই আশ্চর্যজনক অদ্ভুত সত্তার সন্ধান মিলেছে সমুদ্রের এক ধরনের প্ল্যাঙ্কটনের জিন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে। নতুন আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের বাধ্য করছে জীবন সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজির স্ট্রাকচারাল বায়োলজির অধ্যাপক বিজ্ঞানী ডঃ কৃষ্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে সাম্প্রতিককালে এটাই বিজ্ঞানের অন্যতম বড় আবিষ্কার। তবে এই জাতীয় গবেষণাপত্র রিভিউ হওয়ার প্রয়োজন আছে। তখনই বোঝা যাবে, সারা পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের যাচাই প্রক্রিয়া পার করে কতটা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে এই ‘আবিষ্কার’।

সম্পর্কিত সংবাদ