


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘ ১০ বছর ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে আদর যত্নের কোনও খামতি ছিল না। শেষবেলায়ও বৃদ্ধ সোহানকে বাঁচাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি কেউ। কিন্তু সবার সব চেষ্টা ব্যর্থ হল। মৃত্যু হল বাঘটির। এক যুগ বন্দিদশা কাটানোর পর লম্বা জীবনপথে ইতি টানল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সোহান। তার বিদায়বেলায় দুঃখ পেল সবাই। আর বাঘটি পেল রাজার উপযুক্ত রাজকীয় সংবর্ধনা।
শুক্রবার সারাদিন বাঘটির শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিকই ছিল। নিয়মমাফিক খাওয়াদাওয়া করে। খোলা মাঠে দিব্যি ঘুরেছে। শনিবার সকাল থেকে হঠাৎ বিগড়ে যায় শরীর। আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে শ্বাসকষ্ট। অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ায় বারে বারে অক্সিজেন দিতে হয়। চিকেন স্যুপ ও গ্লুকোজ মেশানো জল খাওয়ানো হয়। ঘণ্টাচারেক এই অবস্থা চলে। কিন্তু শরীর ঠিক হয়নি। বিকেল চারটে নাগাদ মৃত্যু। এরপর নিয়ম মেনে ময়নাতদন্ত করেন পশু চিকিৎসকরা। ‘রেসপিরেটরি ফেলিওর’ মৃত্যুর কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোহানের গল্প শুরু হয় ২০১২ সালে। সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে বারেবারে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছিল সে। তাকে উদ্ধার করা হয়। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায় আলিপুর চিড়িয়াখানায়। সেখানেই রাখা হয়েছিল। বয়সজনিত কারণে জঙ্গলে ছাড়া যায়নি। ২০১৪ সালে এই রয়েল বেঙ্গল টাইগারটির ঠাঁই হয় ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নামকরণ করেন ‘সোহান’। বয়সের বিচারে সোহান রাজ্যের অন্যতম প্রবীণ বাঘ।
মৃত্যুর পর সেই অনুসারে যথাযোগ্য সম্মানও পেল সে। ফুলের চাদর দিয়ে সাজানো হয় শেষশয্যা। তাতে শুইয়ে সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা হয় শরীর। খোলা ছিল শুধু মুখ ও পা। যে বনকর্মী-চিকিৎসকরা এতদিন প্রাণীটিকে দেখভাল করেছেন তাঁদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রত্যেকে ফুল-মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিদায় যাত্রায় ‘সোহান উই উইল মিস ইউ ফরএভার’- প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাঁটেন অনেকে। শেষযাত্রায় ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন বিভাগের আধিকারিকরা। ১৬ বনকর্মী কাঁধে নিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের পিছনের অংশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাহ করেন বাঘটিকে। রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা শোকপ্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘বন্যপ্রাণীদের আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখা হয়। বাঘটির মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সব কিছু মেনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।’ এখন ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে রইল সোহিনী ও সুন্দর নামে মাত্র দু’টি বাঘ। সোহানের জায়গায় আর কোনও বাঘ আনা যায় কি না সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বনমন্ত্রী।