


ভুবনেশ্বর: ২৫ বছর পর জেল থেকে ছাড়া পেলেন অস্ট্রেলিয়ান মিশনারি গ্রাহাম স্টেইনস ও তাঁর দুই সন্তান খুনে দোষী সাব্যস্ত মহেন্দ্র হেমব্রম। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভালো আচরণের জন্যই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মুক্ত হলেন ওই বজরং নেতা। বিলকিস মামলাতেও এভাবে ভালো আচরণের কারণ দেখিয়ে ১১ জনকে মুক্তি দিয়েছিল গুজরাতের বিজেপি সরকার।
১৯৯৯ সালে কেওনঝড় জেলার মনোহরপুর গ্রামে অস্টেলিয়ান মিশনারি গ্রাহাম স্টেইনস ও তাঁর দুই নাবালক শিশুকে জ্যন্ত জ্বালিয়ে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল বজরং দলের নেতা রবীন্দ্র পাল সিং ওরফে দারা সিং এবং হেমব্রম। ২০০০ সালের ৩১ জানুয়ারি হেমব্রমকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আড়াই দশক পর জেল থেকে বেরিয়ে হেমব্রম বলে, ধর্মান্তকরণ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য ২৫ বছর জেলে কাটিয়েছি। আজ মুক্তি পেলাম। হেমব্রমকে স্বাগত জানিয়েছে বজরং দলের মূল সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক কেদার দাস জানিয়েছে, আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। সরকারি সিদ্ধান্তের আমরা খুশি।
বজরং দল অভিযোগ করেছিল, এলাকায় ধর্মান্তকরণ চালাচ্ছেন গ্রাহাম। তার ভিত্তিতে ১৯৯৯ সালে ২১ জানুয়ারি, দারা সিংয়ের নেতৃত্বে উত্তেজিত জনতা হঠাৎই ওই মিশনারির বাড়িতে হামলা করে। সেই সময় গাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। হামলার মুখে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তা আটকে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল হামলাকারীরা। পরদিন সকালে তিনজনের দগ্ধ কঙ্কাল উদ্ধার করেছিল পুলিস। এই ঘটনায় দেশ-বিদেশে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে। মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনবছরের মধ্যে ৩৭ জনকে মুক্তি দেয় আদালত। দারা সিং ও হেমব্রম সহ ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যদিও পরে আরও ১২ জনও মুক্তি পেয়ে যান। দারা সিং ও হেমব্রমের যাবজ্জীবন সাজা হয়। একাধিকবার মুক্তির আবেদন জানিয়েছে তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে ওড়িশা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতো ওড়িশা স্টেট সেন্টেন্স রিভিউ বোর্ডের সুপারিশ মতো হেমব্রমকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দারা সিংকেও নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওড়িশা সরকার।