


নয়াদিল্লি ও মুম্বই: সদানন্দ দাতে— ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি)। পুলিস অফিসার হিসেবে পেশাদারি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃত্ত পূর্ণ হতে চলেছে তাঁর। ২৬/১১ হামলার সময় কর্মরত ছিলেন মুম্বই পুলিসে। হামলাকারী জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই চলেছিল তাঁর। গ্রেনেড হামলায় জখমও হয়েছিলেন। সাহসিকতার সম্মান হিসেবে পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মেডেল। মহারাষ্ট্র ক্যাডারের ১৯৯০ ব্যাচের এই অফিসারই এখন এনআইএ প্রধান। আমেরিকা থেকে ভারতের হাতে আসা মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর হুসেন রানাকে জেরার গুরুদায়িত্ব তাঁর হাতেই।
২০০৮ সালে হামলার সময় মুম্বই পুলিসের অ্যাডিশনাল কমিশনার (সেন্ট্রাল রিজিয়ন) পদে ছিলেন দাতে। ২৬ নভেম্বরের রাতে তাঁর কাছে খবর আসে, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস থেকে ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে কামা হাসপাতালে চলে এসেছে জঙ্গিরা। সেই দলে ছিল আজমল কাসবও। ততক্ষণে প্রায় ৬০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হামলাকারীরা হাসপাতালে ঢুকে রোগীদের পণপন্দি করার চেষ্টায় রয়েছে। নিজের টিম নিয়ে সরাসরি কামা হাসাপাতালে চলে আসেন দাতে। জঙ্গিদের সঙ্গে শুরু হয় গুলির লড়াই। ঘটনাচক্রে একে-৪৭ নিয়ে হামলা চালানো পাক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধটি গড়ে তুলেছিল দাতের নেতৃত্বাধীন টিমই। আর সেই প্রতিরোধের মুখে পড়েই কামা হাসপাতাল থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিল জঙ্গিরা। সেই সময় জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে জখম হয়েছিলেন দাতে। সেই ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর এনআইএ প্রধান হিসেবে এবার রানাকে জেরার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। আর মাঝের এই ১৭ বছরে মুম্বই পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও মহারাষ্ট্র এটিএসের প্রধান সহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সিআরপিএফের আইজি (অপারেশনস) হিসেবে মাওবাদী দমনেও তাৎপূর্ণপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
সদানন্দ দাতের নেতৃত্বে তাহাউর রানাকে এনআইএর যে টিম জেরা করবে, সেখানে রয়েছেন আশিস বাত্রা ও জয়া রায়। প্রথমজন এনআইএর আইজি পদে রয়েছেন, দ্বিতীয়জন ডিআইজি পদে। ঘটনাচক্রে, রানাকে আমেরিকা থেকে প্রতর্পণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই দুই অফিসার। এনআইএতে যোগ দেওয়ার আগে আশিস বাত্রা ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আইজি পদে ছিলেন। ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী উপদ্রুত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ১৯৯৭ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের। অন্যদিকে জয়া রায় হলেন ২০১১ ব্যাচের ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। ২০১৯ সালে চার বছরের ডেপুটেশনে (পরে সেই মেদায় বর্ধিত করা হয়) তাঁকে এনআইএতে আনা হয়েছিল। এনআইএতে যোগ দেওয়ার আগে জয়া রায়ের নেতৃত্বাধীন টিম জামতাড়া গ্যাংয়ের সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপারেশনে বড় সাফল্য পেয়েছিল।
রানার বিরুদ্ধে সদানন্দ দাতের নেতৃত্বে তদন্তের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই আদালতে এনআইএর হয়ে মামলার নেতৃত্বে থাকবেন প্রবীণ আইনজীবী দয়ান কৃষ্ণন। রানার প্রত্যর্পণ পাকা করতে মার্কিন আদালতেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, নির্ভয়া কাণ্ডেও আইনি লড়াইয়ে কৃষ্ণনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবার রানাকে সাজা দিতে ভারতের আদালতেও তাঁর নেতৃত্বেই সওয়াল চলবে। কৃষ্ণনকে সহায়তাকারী টিমে থাকছেন আরও এক দুঁদে ফৌজদারি আইনজীবী নরেন্দ্র মান। এর আগে দিল্লি হাইকোর্টে সিবিআইয়ের পক্ষে লড়াই করেছেন তিনি।