Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যের প্রস্তাবিত রুটেই অস্ত্র ছাড়া হবে রামনবমীর মিছিল, নির্দেশ হাইকোর্টের

শর্তসাপেক্ষে হাওড়ায় রামনবমীর মিছিলের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার দীর্ঘ শুনানির পর নির্দেশে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, ধাতব কোনও হাতিয়ার নিয়ে মিছিল করা যাবে না।

রাজ্যের প্রস্তাবিত রুটেই অস্ত্র ছাড়া হবে রামনবমীর মিছিল, নির্দেশ হাইকোর্টের
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: শর্তসাপেক্ষে হাওড়ায় রামনবমীর মিছিলের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার দীর্ঘ শুনানির পর নির্দেশে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, ধাতব কোনও হাতিয়ার নিয়ে মিছিল করা যাবে না। পিভিসি বা ওই ধরনের কিছু দিয়ে তৈরি ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। সেই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, মামলাকারী দুই সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও অঞ্জনী পুত্র সেনাকে রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত রুটেই মিছিল আয়োজন করতে হবে। দু’টি পৃথক মিছিল করা যাবে সর্বোচ্চ ৫০০ জনকে নিয়ে। সবাইকে সঙ্গে রাখতে হবে পরিচয়পত্র। মিছিলের সময়ও বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত মিছিল করবে অঞ্জনী পুত্র সেনা। বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত মিছিল করবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

Advertisement

পছন্দসই রুটে মিছিলের অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ভিএইচপি ও অঞ্জনী পুত্র সেনা। সেই মামলার শুনানিতে এদিন রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়, অতীতে রামনবমীকে কেন্দ্র করে হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির নজির রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রামনবমীতে মিছিলের অনুমতি দেয়নি পুলিস। মামলাকারীর আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, রাজ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে না পারলে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হোক। তবে সেই দাবি মানেননি বিচারপতি। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি নির্দেশে জানিয়ে দেন, হাইকোর্টের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী রাজ্যের প্রস্তাবিত রুটেই আলাদা সময়ে মিছিল করবেন মামলাকারীরা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে রামনবমীর শোভাযাত্রায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জি টি রোড সংলগ্ন শিবপুর এলাকা। বহু বাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। দেদার বোমাবাজি হয় ও গুলি চলে। সেরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার রামনবমীতে নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখছে না হাওড়া সিটি পুলিস। সূত্রের খবর, জি টি রোডের কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত গোটা রুটকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে। প্রতিটি জোনে মোতায়েন করা পুলিসবাহিনীর দায়িত্বে থাকবেন ডিসি ও এসিপি পদমর্যাদার অফিসাররা। প্রতিটি গলির মুখে পুলিসের ব্যারিকেড থাকবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩০০’র বেশি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এমনকী, বিভিন্ন বাড়ির ছাদেও সশস্ত্র পুলিস মোতায়েন থাকবে বলে জানা গিয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালীন ড্রোনের মাধ্যমে চলবে নজরদারি। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘রবিবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। ওই সময় গাড়িগুলি ফরশোর রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ