


সুকান্ত বসু, কলকাতা: বন্দিদশায় হতাশা যাতে কোনওভাবেই মনকে গ্রাস না করে, তা রুখতে এবার হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হল আলিপুরের মহিলা সংশোধনাগারের আবাসিকদের। কলকাতা আইনি সহয়তা কেন্দ্রের (লিগ্যাল এইড) উদ্যোগে সম্প্রতি এক কর্মশালায় হাজির ছিলেন বিশিষ্ট মনোবিদরা। সেখানে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে চলে দীর্ঘ সময় ধরে ওই বিশেষ কর্মশালা। সেখানে আলোচনায় উঠে আসে বন্দিদশায় হতাশা কাটাতে বেশি মাত্রায় জরুরি তাঁদেরকে হাতের কাজে আরও বেশি মাত্রায় নিজেদের নিয়োজিত রাখা। তাতে বন্দিদের মধ্যে যেমন হাতাশা কাটবে, অন্যদিকে, তাঁরা আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন। কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে কীভাবে মন চাঙা ও ভালো রাখা যায়, সেই বিষয়ে নানা তথ্য পেশ করা হয় বন্দিদের মধ্যে ছবি, লেখা ও রেখায়। সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিরা সমস্যা নিরসনে নানা প্রশ্ন তোলেন ওই আলোচনাসভায়। সেখানে মনোবিদরা সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। কলকাতা লিগ্যাল এইডের সচিব তথা বিচারক অর্পিতা ঘোষ বলেন, আগামী দিনে এই ধরনের কর্মশালা আরও বেশি মাত্রায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্দেশ্য হল বন্দিরা যাতে সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারে। পাশাপাশি এই ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে উঠে আসবে বন্দিদের মধ্যে জমে থাকা সুখ দুঃখের কথা। যা প্রতিকার করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
কারা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে যাতে রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সেই বিষয়ে সাধ্যমতো পদক্ষেপ করা হবে। দপ্তরের এক অফিসারের কথায়, ‘এ রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহকুমা সংশোধনাগারে বন্দিদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই নিত্য নতুন হাতের কাজের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে তাঁদের হাতের নানা কাজের নমুনা বিভিন্ন মহল থেকে সন্মানিতও হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই কাজ এ রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন প্রদেশেও গিয়েছে। ফলে এনিয়ে আর্থিকভাবে বন্দিরা লাভবান হয়েছে। কলকাতার এক জেল অফিসারের কথায়,‘ বন্দিদের হাতের কাজের নমুনার মধ্যে রয়েছে বিছানার চাঁদর, মশারি, পাপস, আসন, কাপড়, ফতুয়া, সর্ষের তেল, বুক বাঁধাই, বাঁশের ফুলদানি, ধূপধানি, জ্যাম জেলি, মধু, সাবান, ফিনাইল প্রভৃতি। এছাড়া অঙ্কন শিল্প, সঙ্গীত চর্চা, যাত্রা, নাটক প্রভৃতি সংস্কৃতি চর্চায় যাতে বন্দিরা আরও বেশি মাত্রায় নিজেদের মগ্ন রাখতে পারেন, সেই বিষয়ে আরও বেশি করে উদ্যোগী হবে কারা দপ্তর। অর্থাৎ বন্দিরা যাতে সর্বদা কর্মচঞ্চল থাকেন এবং আগামী দিনে তাঁরা মূল স্রোতে ফিরে যেতে পারেন, সেই কারণেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।