Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪ প্রতিবেশীর সাড়ে ৮ লক্ষ টন বর্জ্যের বোঝা কলকাতার ঘাড়ে

৪ প্রতিবেশীর সাড়ে ৮ লক্ষ টন বর্জ্যের বোঝা কলকাতার ঘাড়ে
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অর্ক দে, কলকাতা: চাপ বাড়ছে ধাপার! কলকাতা পুরসভার এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ধারণক্ষমতা আগেই ফুরিয়েছে। আবর্জনা ফেলার জন্য বিকল্প জমি চিহ্নিতও করেছে পুরসভা। কিন্তু সেই জমি হাতে পেতে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগয়নি। রাজ্য সরকারের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় থমকে রয়েছে সেই প্রক্রিয়া। তাই আপাতত বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় কলকাতার যাবতীয় জঞ্জাল ধাপার বর্তমান ডাম্পিং গ্রাউন্ডেই পড়ছে। ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’র মতো এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী একাধিক পুরসভা ও উন্নয়ন পর্ষদ এলাকার জঞ্জাল। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভার জঞ্জাল ধাপায় আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায়    সাড়ে আট লক্ষ মেট্রিক টন জঞ্জালের বাড়তি বোঝা এখন ধাপার ঘাড়ে। প্রতিদিন সেই বোঝা বেড়ে চলেছে। এই বাড়তি চাপ এভাবে কতদিন সামলানো যাবে, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত পুরকর্তারা।  
Advertisement
২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বিধাননগর, নিউটাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ) এবং নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটি অঞ্চলের জঞ্জাল নিয়মিত পড়ছে ধাপায়। এই তিনটি এলাকা থেকে গরমকালে রোজ গড়ে প্রায় ৭৫০ টন জঞ্জাল আসে। শীতকালে কিছুটা কমে ৪৫০ টন হয়। এক অফিসার বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী পুরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিছুই নেই বললে চলে। পুরোটাই ধাপায় চলে আসছে। এখন নতুন যুক্ত হয়েছে পানিহাটি। ধাপায় এমনিতেই আর জায়গা নেই। বাড়তি চাপে সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে।’ ওই কর্তাই জানালেন, গত পাঁচ বছরে (২০১৯-২৪) ধাপায় এই বাড়তি জঞ্জালের পরিমাণ প্রায় সাড়ে আট লক্ষ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ২৪৭৭ মেট্রিক টন ময়লা এসেছে শুধু পানিহাটি থেকেই। অক্টোবর মাসে এই পরিমাণ ছিল ১৯৬৭ মেট্রিক টন। 
কলকাতা পুরসভার জজ্ঞাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানাচ্ছে, চার মাস আগে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে বিধাননগর, নবদিগন্ত, এনকেডিএ এবং পানিহাটি পুরসভাকে বলা হয়, দিনের পর দিন ধাপায় এভাবে আবর্জনা ফেলা যাবে না। জঞ্জালের পুনর্ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার জন্য তারা যেন নিজস্ব প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কর্তৃপক্ষই তা করতে পারেনি। কলকাতার এক পুরকর্তার কথায়, ‘ধাপার বিকল্প হিসেবে পার্শ্ববর্তী এলাকার ৭৩ হেক্টর জমি চিহ্নিত হয়েছে। পুরসভারই জমি হলেও বহু বছর ধরে সেখানে অনেক চাষি ফসল 
ফলাচ্ছেন। কয়েকটি ভেড়িও রয়েছে। ওই কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ৫৫ কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। ফলে গোটা প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। এর উপর প্রতিবেশী এলাকার জঞ্জালের বাড়তি চাপ গোটা পরিস্থিতিতে জটিল করে তুলেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ